Published : 28 May 2026, 02:55 PM
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের নবি সারি এলাকার আদলুন মহাসড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়।
নিহতরা সবাই এক পরিবারের সদস্য বলে খবরে বলা হয়েছে। এনএনএ বলেছে, “ইসরায়েলের হুমকির মুখে ভোরে গ্রাম থেকে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হয়।”
আল জাজিরা জানিয়েছে, আদলুন মহাসড়ক হল লেবাননের সিডন ও টায়ারকে সংযোগকারী প্রধান মহসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অংশ।
একই দিন পরে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে ইসরায়েলের পরিকল্পিত এক ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়। ঘটনার সময় এ দুজন মোটরসাইকেলে করে কোথাও যাচ্ছিলেন।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী টায়ার শহরের বাসিন্দাদের শহরটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিল।
বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল একটি অংশকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ হিসেবে ঘোষণা করে আর ওই এলাকার বাসিন্দাদের উত্তরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি সতর্ক করে জানায়, এই অঞ্চলে তারা লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘প্রবল শক্তিতে’ আক্রমণ চালাতে পারে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ১২০টিরও বেশি বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় প্রায় ৪০ জন নিহত হয়।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই এলাকার লোকজন উত্তরে বন্দর শহর সিডনে পালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের বাস্তচ্যুত কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার লেবাননের মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা পালন করেছে।
২ মার্চ ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩২০০ জনের বেশি নিহত ও ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
১৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল আর এ সময় অন্তত ৬০৮ জন নিহত হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।