Published : 27 May 2025, 02:16 PM
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকুলা শহরে গাড়ির ভেতর থেকে এক পরিবারের ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; মৃতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। গাড়িটির বাইরে আরও একজনকে পাওয়া যায় যিনি জানান, তিনি 'পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মারা যাবেন'।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিবারটি চরম ঋণে ডুবে ছিল এবং তারা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে। পঞ্চকুলার এক বাড়ির সামনে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে গাড়ির ভেতরে মৃতদেহগুলো দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জানা গেছে, ৪২ বছর বয়সী প্রবীণ মিত্তাল এবং তার পরিবার ওই রাতে পঞ্চকুলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে তাদের বাসা উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ফিরছিলেন। তারা বাগেশ্বর ধামের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। মাঝরাতে সেখান থেকে ফেরার পথে পরিবারের সদস্যরা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে হাঁটতে বেরিয়ে দেখতে পান, উত্তরাখণ্ডের একটি নাম্বার প্লেটযুক্ত গাড়ি তার নিজের গাড়ির পেছনে রাখা। ওই সময় এক ব্যক্তি- সম্ভবত প্রবীণ মিত্তল—গাড়ির পাশে ফুটপাতে বসেছিলেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গাড়ির ভেতর ঝুলতে থাকা একটি তোয়ালে দেখে সন্দেহ হয় তাদের। গাড়ির বাইরে থাকা লোকটার কাছে যেয়ে তারা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোথা থেকে এসেছেন। তিনি জানান, তার পরিবার বাগেশ্বর ধাম থেকে ফিরছে, হোটেল না পেয়ে গাড়িতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা ওই লোককে তার গাড়িটি স্থানীয় মার্কেট এলাকায় সরিয়ে নিতে বলেন।
লোকটি উঠে গাড়ি সরাতে যান, কিন্তু তাতে স্থানীয়দের সন্দেহ দূর হয় না। তারা গাড়ির দিকে ফিরে গিয়ে জানালায় উঁকি দেন এবং চোখে পড়ে ছয়টি মৃতদেহ, দুর্গন্ধময় এক পরিবেশ।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “আমি দেখি, ছয় জন একসাথে শুয়ে আছেন, তারা একে অপরের গায়ে বমি করেছে। গাড়ি থেকে তীব্র গন্ধ বের হচ্ছিল। আমি লোকটিকে টেনে সরাই এবং জিজ্ঞেস করি, ঘটনা কী। তিনি জানান, পরিবারটি একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে এবং তিনিও পাঁচ মিনিটের মধ্যে মারা যাবেন। দাবি করেন, তিনি প্রচণ্ড ঋণের চাপে ছিলেন।”
এনডিটিভি জানায়, পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সবাইকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে, ওই ব্যক্তি বেঁচে যেতে পারতেন যদি অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছাত বলে জানান স্থানীয়রা।
মৃতরা হলেন, প্রবীণ মিত্তল (৪২), তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং তিনটি ছোট শিশু- দুই কন্যা ও এক পুত্র।
পঞ্চকুলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হিমাদ্রি কৌশিক এবং আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অমিত দাহিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন।
হিমাদ্রি কৌশিক বলেন, “আমরা জানতে পারি, ছয় জনকে ওজাস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
“অন্য একজনকে সেক্টর ৬-এর সিভিল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। আমরা সকল তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করছি,” যোগ করেন তিনি।
জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। যদিও তার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল এবং তার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
মৃতদেহগুলো একটি বেসরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।