Published : 26 May 2026, 02:03 PM
সোয়া চার বছর আগে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রতিবেশী ইউক্রেইনের রাজধানীতে অন্যতম বড় এক হামলা চালানোর কয়েকদিন পর রাশিয়া কিইভে আরও কয়েকদফা ‘পদ্ধতিগত হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছে।
নতুন হামলাগুলোতে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্র ও কমান্ড পোস্টগুলোকে’ নিশানা করা হবে, থাকবে শহরটির ড্রোন প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোও, বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ কিইভ ছেড়ে যেতেও বলেছে মস্কো, তারা শহরটির বাসিন্দাদেরও প্রশাসনিক ও সামরিক ভবনগুলো থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেইন এ হুমকিকে ‘নির্লজ্জ ব্ল্যাকমেইলের চেয়ে কম কিছু না’ আখ্যা দিয়ে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে মিত্রদের তাগাদা দিয়েছে।
শনিবার রাতে ইউক্রেইনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় কিইভ ও অন্যান্য এলাকায় ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মস্কো বলছে, শুক্রবার ইউক্রেইন স্টারওবলিস্ক শহরে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের এক ডরমেটরিতে যে হামলা চালিয়েছে তার পাল্টায় শনিবারের হামলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হামলা হবে।
স্টারওবলিস্কে ওই হামলায় অন্তত ২১ বেসামরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
তবে ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের বাহিনী রাশিয়ার হাতে থাকা পূর্ব ইউক্রেইনের ওই এলাকায় রুশ সামরিক বাহিনীর এক বিশেষ ড্রোন ইউনিটের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অনেক ভিডিওতে শনিবার রাতে রুশ হামলার সময় কিইভের আকাশজুড়ে আলোর ছটা দেখা গেছে। শহরটির অনেক বাসিন্দা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
এদিন রাশিয়া ইউক্রেইনের রাজধানী লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকশ ড্রোন ছুড়েছিল। তাদের একটি হাইপারসনিক ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিইভের ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বিলা জের্কভা এলাকায়ও আঘাত হেনেছে। রুশ এ ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রে চাইলে পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত করে দেওয়া সম্ভব।
ইউক্রেইন বলেছে, রাশিয়ার হামলায় চেরনোবিল জাদুঘর, ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়ামের মতো বেসামরিক অনেক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুকানিভকা এলাকায় একটি শপিং সেন্টার, বাজার ও একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ফোনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে যত দ্রুত সম্ভব কিইভ থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ওই ফোনালাপের পর রুবিও বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেইন যে একে অপরের ওপর বড় বড় হামলা চালাচ্ছে তা-ই ‘মনে করিয়ে দিচ্ছে কেন এটি মারাত্মক এক যুদ্ধ, এবং কেন এর অবসান ঘটানো দরকার’।
যুদ্ধ বন্ধে সহায়তায় যা করা লাগে তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত জানিয়ে মার্কিন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আশা করছি এক পর্যায়ে এ সুযোগ মিলবে।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রুশ হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পেছনে ইউক্রেইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেইন বিদেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
গত মার্চে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের গোলার ঘাটতির মুখোমুখি হতে পারে তার দেশ।