Published : 26 Feb 2026, 08:31 PM
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও এর কার্যক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এক বিরল বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশের পারমাণবিক শক্তিকে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া ‘একসঙ্গে চলতে পারে’ যদি ওয়াশিংটন মেনে নেয় যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র এখানেই থাকবে।
রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পঞ্চবার্ষিক নবম কংগ্রেসে কিম এই মন্তব্য করেন।
আগামী এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের আগে কিমের এই বক্তব্যকে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
কিম জং-উন বলেন, “ওয়াশিংটন যদি আমাদের সংবিধানে বর্ণিত বর্তমান পারমাণবিক অবস্থানকে সম্মান জানায় এবং তাদের শত্রুতাভাবাপন্ন নীতি পরিহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের একসাথে চলতে না পারার কোনও কারণ নেই।”
তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সব আশা নাকচ করে দিয়েছেন কিম।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে তিনি দেশটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে বৈরী শত্রুদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কিম দক্ষিণ কোরিয়াকে স্থায়ীভাবে ‘স্বজাতীয়’ বা ‘সহোদর’ শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “যতদিন দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সঙ্গে তাদের সীমান্ত সংলগ্ন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বের হতে পারবে না, ততদিন নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কিছু বাদ দেওয়া এবং আমাদেরকে নিজেদের মতো থাকতে দেওয়া।”
এক বিশ্লেষক বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাধীনভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। কিম বলেন, “আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলোতে গুরুত্ব দেব।”
স্বাধীন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (এসআইপিআরআই)-এর গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৫০টি তৈরি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং আরও ৪০টি তৈরির মতো তেজস্ক্রিয় পদার্থ মজুত আছে।
গত নভেম্বরেও কিম তার দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সীমাহীন’ বিস্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা রোডম্যাপ প্রকাশ করেন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার ‘নিরস্ত্রীকরণ’ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
অথচ ২০০৩ সাল থেকে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য ছিল। ওই সময়ই উত্তর কোরিয়ার পামাণবিক কর্মসূচির উদ্ভব ঘটেছিল।
ট্রাম্পের এবারের রোডম্যাপে এ বিষয়েটি না থাকায় কিমের সঙ্গে তার গত ২০১৯ সালের পর আবারও শিগগিরই বৈঠক হতে পারে বলে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের রোডম্যাপে ১৬ বার উত্তর কোরিয়ার নাম এসেছিল এবং দেশটিকে শত্রু ও দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পামাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
তবে কিম বরাবরই পরিষ্কার করে বলে এসেছেন যে, তার দেশ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চায় না। গতবছর সেপ্টেম্বরে তিনি পার্লামেন্টে বলেছিলেন, “নিরস্ত্রীকরণের ধারণা এরই মধ্যে অর্থহীন হয়ে পড়েছে। আমরা পারমাণবিক শক্তির দেশ হয়ে গেছি।”