Published : 30 Dec 2025, 12:39 AM
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেইন ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো।
সোমবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই অভিযোগ করে বলেছেন, এর ফলে শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তবে ইউক্রেইন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার দিবাগত রাতে উত্তর রাশিয়ার নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হামলা চালাতে ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন পাঠায় ইউক্রেইন।
তবে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি বলে জানান ল্যাভরভ।
ড্রোন হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে। রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে।”
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মস্কো আসলে কিইভের সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালানোর পট প্রস্তুত করতে এই মিথ্যা অভিযোগ সামনে আনছে।
জেলেনস্কির মতে, চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতেই রাশিয়া এই চাল চেলেছে।
শান্তি আলোচনায় প্রভাব:
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ উল্লেখ করেছেন, এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে হল, যখন একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাশিয়া আলোচনা থেকে সরে যাবে না, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মস্কোর অবস্থান পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
হামলার সময় পুতিন তার উত্তর অঞ্চলের ‘দলগিয়ে বোরোদি’ নামক ওই বাসভবনে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঐতিহাসিকভাবে এই বাসভবনটি জোসেফ স্টালিন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট পুতিন পর্যন্ত রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা ব্যবহার করে আসছেন।
জাপোরিঝিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি:
কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার পুতিন তার বাহিনীকে দক্ষিণ ইউক্রেইনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রুশ কমান্ডারের দেওয়া তথ্যমতে, মস্কো বাহিনী ওই অঞ্চলের বৃহত্তম শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।