হরমুজ অভিযানের প্রস্তুতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করার সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হিসেবে ফ্রান্স লোহিত সাগরে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ বহর মোতায়েনের পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতিতে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে।
এইচএমএস ড্রাগন যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা করতে পাঠানো হয়েছিল। এখন এটিকে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করার সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হিসেবে ফ্রান্স লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের একটি বহর মোতায়েন করার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মূলত যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একযোগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফেরানোর একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা বিচক্ষণ এক পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফ্রান্স যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের প্রস্তুতি নিশ্চিত হবে।”
পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বা সংঘাত থামলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি গড়তে একটি প্রস্তাব নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই কাজ করে আসছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক দেশ এ হরমুজ অভিযানে অংশ নেওয়ার আগ্রহও ব্যক্ত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বেধে যায় ইউরোপের দেশগুলো মোটাদাগে তা থেকে গা বাঁচিয়ে চলতে চেয়েছিল। কিন্তু নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর পর নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখন তাদের সক্রিয় হতেই হচ্ছে।
তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যে অবরোধ দিয়েছেন, তাতে সহায়তা করতে ইউরোপীয় দেশগুলো রাজি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের ওপর ক্ষিপ্তও হন, লোহিত সাগরে রণতরী পাঠানোকে তার ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
