০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘তীব্র তাপ মহামারী’ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম  তাপমাত্রা মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

বিডিনিউজ২৪

রয়টার্স

Published : 27 Jul 2024, 01:00 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:06 AM

মানবজাতি ‘তীব্র তাপ মহামারীতে’ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অতিমাত্রার এই তাপমাত্রা মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। 

তিনি বলেন, “চরম  এই তাপমাত্রা নতুন এক অস্বাভাবিক ঘটনা। বিশ্বকে অবশ্যই তাপপ্রবাহের রাশ টেনে ধরতে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে। এ বছর প্রচণ্ড গরমে ১ হাজার ৩০০ হজযাত্রী মারা গেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ায় প্রায় ৮ কোটি শিশুর স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে হাসপাতালে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ গবেষণা প্রকল্পের অধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান কোপারনিকাস নেটওয়ার্কের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯৪০ সালে বিশ্বে উষ্ণতার রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের জুন থেকে প্রতিটি মাসই এখন এর আগের বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ হওয়ার রেকর্ড গড়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বিশ্বের দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিসৃত গ্রিন হাউজ গ্যাস কমানোর জন্য তাগাদা দিয়েছেন। 

আর কেবল তাই-ই নয়, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করারও  আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশেরও বেশি শ্রমশক্তি (২৪০ কোটি মানুষ) এখন চরম তাপমাত্রার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আফ্রিকায় প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং আরব দেশগুলোর ৮৪ শতাংশ শ্রমিক চরম তাপমাত্রায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ১৯,০০০ জনের মৃত্যুর কারণ হিসাবে অতিরিক্ত তাপমাত্রাকে দায়ী করা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বলেন, “মানবাধিকারের ভিত্তিতে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আমাদের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

তিনি বিশ্বের দেশগুলোর সরকারকে তাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং নির্মিত পরিবেশকে ‘তাপনিরোধক’ করার আহ্বান জানান।

বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণও হচ্ছে। ফলে বিশ্বব্যাপী গড় হারের দ্বিগুণ হারে তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।