নিউ ইয়র্ক টাইমসে অংশীদারত্ব, মিডিয়া ব্যবসায় ফিরল বাফেটের কোম্পানি
এর মধ্যদিয়ে কোম্পানিটি নতুন করে মিডিয়া ব্যবসায় ফেরার ইঙ্গিত দিল, যেখান থেকে বাফেট ২০২০ সালে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে অংশীদারত্ব থাকার কথা জানিয়েছে মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি— বাকশা হ্যাথওয়ে।
মঙ্গলবার কোম্পানিটি বলেছে, তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসে নতুন করে বিনিয়োগ করেছে।
এই বিনিয়োগের মধ্যদিয়ে বাফেটের কোম্পানি নতুন করে মিডিয়া ব্যবসায় ফেরার ইঙ্গিত দিল, যেখান থেকে বাফেট ২০২০ সালে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
আচমকা বিনিয়োগের এ ঘোষণা আসার পর নিউ ইয়র্ক টাইমসের শেয়ার দর ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিট অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বাকশা বলেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তাদের কাছে টাইমসের প্রায় ৫০ লাখ ৭ হাজার শেয়ার ছিল, যার মূল্য ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ডলারের মতো।
কোম্পানিটি বলেছে, চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) তারা আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের অংশীদারত্বের ৪ শতাংশ ও ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামজনের ৭৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে।
এরপরেও অবশ্য অ্যাপলে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ রয়েছে তাদের, যার মূল্য প্রায় ৬২০০ কোটি ডলার।
গেল প্রান্তিকের মধ্য দিয়েই বাকশা হ্যাথওয়ে কোম্পানিতে বাফেটের ৬০ বছরের নেতৃত্বের সমাপ্তি ঘটে।
১ জানুয়ারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন গ্রেগ অ্যাবেল। তবে বাফেট এখনও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি বাফেটের, নাকি অ্যাবলের, সে তথ্য বাকশা হ্যাথওয়ের নথিতে নেই।
বাকশা নতুন কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করলে সাধারণত সেই কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে। কারণ বিনিয়োগকারীরা একে বাফেটের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।
টাইমস ‘বেঁচে আছে’, বলছেন কৈশোরে পত্রিকা বিলি করা বাফেট
কৈশোরে নিজেই সংবাদপত্র বিলি করতেন বাফেট। দীর্ঘদিন তিনি এই শিল্পের পক্ষ নিয়ে কথাও বলেছেন।
তবে ২০২০ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড-হেরাল্ডসহ বাকশার সংবাদপত্র ব্যবসা ১৪কোটি ডলারে ‘লি এন্টারপ্রাইজেসের’ কাছে বিক্রি করে দেন। পরে ‘লি এন্টারপ্রাইজেসের’ একমাত্র ঋণদাতাও হয় বাকশা।
২০১৮ সালে বাফেট বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের ডিজিটাল সংস্করণ সংবাদমাধ্যমগুলোর মুদ্রণ সংস্করণের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি পুষিয়ে নিতে সক্ষম।
যদিও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন পোস্ট পরে সংকটে পড়ে এবং চলতি মাসে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করে দেয়।
চতুর্থ প্রান্তিকে বাকশা অবশ্য আরও কিছু শেয়ার কেনাবেচনা করেছে। এরমধ্যে ‘শেভরন’ ও ‘চাব’ কোম্পানিতে তারা অংশীদারত্ব বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ‘এওন’ ও ‘ব্যাংক অব আমেরিকার’ কিছু শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে।
বাকশার বহু ধরনের ব্যবসা রয়েছে। এ তালিকায় আছে— বিএনএসএফ রেলওয়ে, জিইআইসিও, ব্রুকস, ডেইরি কুইন, ফ্রুইট অব দ্য লুম ও সি’স ক্যান্ডিস।
