১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি: ইরান

কোনো বৈঠকে বসার আগে দুই পক্ষকে অবশ্যই একটি সমঝোতায় আসতে হবে, বলেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি: ইরান
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Apr 2026, 08:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। 

তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো বৈঠকে বসার আগে দুই পক্ষকে অবশ্যই একটি সমঝোতায় আসতে হবে। 

শনিবার তুরস্কের আনাতোলিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, “আমরা এখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার রূপরেখা বিষয়টি চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা এমন কোনো আলোচনা বা বৈঠকে অংশ নিতে চাই না যা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।”

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছিলেন, এই সপ্তাহের শেষেই হয়তো সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে এই আলোচনার আয়োজন করার মতো লজিস্টিক প্রস্তুতির অভাবে তা এখনই সম্ভব হচ্ছে না। 

গত সপ্তাহে, ইসলামাবাদে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের মার্কিন-ইরান আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

খাতিবজাদেহ বলেন, “যতক্ষণ না আমরা একটি সমঝোতার রূপরেখায় একমত হতে পারছি, ততক্ষণ আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। আসলে আলোচনায় বেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল, কিন্তু অন্য পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্রের) ‘সবটুকু পাওয়ার’ মানসিকতা আমাদের চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। তারা ইরানকে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে বা এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করতে চেয়েছিল।”

তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইরান নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে বা এর ব্যতিক্রম হিসেবে দেখতে রাজি নয়। আমরা যে কোনো বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।” 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল। 

তবে শনিবার তা পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার খবর নিয়ে জানতে চাইলে খাতিবজাদেহ বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল ইরান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমেরিকান পক্ষ বিষয়টি ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছে। তারা বলতে চেয়েছিল যে প্রণালিটি সবার জন্য খোলা থাকলেও কেবল ইরানিদের জন্য নয়। এই কারণেই আমরা বলেছি, যদি আপনারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেন এবং আমেরিকানরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে তাদের এর ফল ভোগ করতে হবে।”