Published : 02 Dec 2025, 09:39 PM
প্রথম বিদেশ সফর শেষ করলেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। তুরস্কের পর লেবানন সফর শেষে তিনি আঞ্চলিক নেতাদেরকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সরে এসে শান্তির জন্য মানুষের আকুতি শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ঐতিহাসিক সমুদ্রতটে আয়োজিত গণ প্রার্থনাসভায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের সামনে বক্তব্য দেন পোপ।
লেবাননে তিনদিনের সফরের শেষ দিনে পোপ লিও বলেন, “সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের প্রয়োজন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভক্তিকে জয় করার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। বিভীষিকাময় যুদ্ধে একে অপরের সঙ্গে বৈরিতা আর ধ্বংসের পথ বহুদূর অতিক্রম করে গেছে।
“এর করুণ পরিণতি আজ সবার সামনে। আমাদের পথ বদলাতে হবে। শান্তির জন্য আমাদের হৃদয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
লেবানন সফরকালে পোপ দেশটির ধর্মীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শান্তি প্রচেষ্টায় দৃঢ় থাকার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরান ঘনিষ্ঠ হিজবুল্লাহর মধ্যে গত বছরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
বৈরুত বিমানবন্দরে ইতালির রোমের পথে রওনা হওয়ার আগে পোপ প্রথম লেবাননে ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পোপ বলেন, তিনি দক্ষিণ লেবানন পরিদর্শন করতে পারেননি। কারণ, অঞ্চলটি এখনও ‘সংঘাত ও অনিশ্চয়তার’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
“আক্রমণ ও বৈরিতা থামুক। সশস্ত্র লড়াই কোনও সুফল আনে না সেটি আমাদেরকে স্বীকার করতেই হবে”,বলেন পোপ।
পোপ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর গত ২৭ নভেম্বর প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান পোপ। সেখানেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আহ্বান জানান এবং বিশ্বে বাড়তে থাকা সংঘাতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে বলে সতর্ক করেন।
তুরস্কে তিনদিনের সফর শেষে পোপ লেবাননে গিয়েছিলেন। সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার বৈরুতের সমুদ্রতটে ভোর থেকেই জড়ো হন ভ্যাটিকান ও লেবাননের পতাকা হাতে হাজারো মানুষ। পোপের সফরকে দেশটির তরুণরা সম্ভাব্য ‘পুনরারম্ভ’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান অনেকেই।
এর আগে তিনি ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসিনীদের পরিচালিত এক মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যান এবং ২০২০ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বৈরুত বন্দর এলাকায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে নীরবে প্রার্থনা করেন।
লেবানন এখনও অর্থনৈতিক পতন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং গাজা সংঘাতের ছায়ায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ লড়াইয়ের প্রভাব মোকাবেলা করছে। দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীও।