Published : 30 May 2025, 03:17 PM
জাতিসংঘ সচিবালয় তাদের ৩৭০ কোটি ডলারের বাজেট থেকে ২০ শতাংশ হ্রাস এবং প্রায় ৬ হাজার ৯০০ কর্মী কমিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের এক অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তারা জাতিসংঘের ওই অভ্যন্তরীণ নথিটি দেখেছে।
নথিতে কর্মীদেরকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে কাটছাঁট সংক্রান্ত তাদের পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এমন এক সময় এ নির্দেশনা দেওয়া হল যখন জাতিসংঘ তুমুল অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রেরও দায় আছে। জাতিসংঘের মোট বার্ষিক বাজেটের প্রায় এক চতুর্থাংশ তারাই দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এরই মধ্যে যে বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছে তাতে বিপদে পড়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো। এর পাশাপাশি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দেনাও এখন প্রায় প্রায় দেড়শ কোটি ডলারের কাছাকাছি।
জাতিসংঘের কন্ট্রোলার চন্দ্রমৌলি রামানাথনের নামে পাঠানো নথিটিতে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনাদায়ী অর্থকে সঙ্কটের কারণ হিসেবে দেখাননি। উল্টো বলেছেন, মার্চে ‘ইউএন৮০’ নামের একটি অভ্যন্তরীন পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই এ কাটছাঁটের দিকে হাঁটছে বৈশ্বিক সংস্থাটি।
তহবিল কাটছাঁট ও কর্মী কমানোর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, নতুন বাজেটের শুরুতেই।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চলতি মাসে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জানান, তিনি একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের চিন্তা করছেন, যাতে বিভিন্ন বিভাগ একত্রিত করা, কিছু দপ্তর সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য কর্মীদের অপেক্ষাকৃত কম খরচের শহরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দেনা জাতিসংঘের জন্য তারল্য সঙ্কটও সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স, চীনও প্রায় প্রত্যেকবারই দেরিতে চাঁদা দেয়। জাতিসংঘের তহবিলে এই দুই দেশের অবদান ৪০ শতাংশের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নতুন বাজেট বিলে মানবিক সহায়তা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছেন, ট্রাম্পের নির্দেশে একটি পর্যালোচনা চলছে, যার রিপোর্ট অগাস্টের শুরুর দিকে প্রকাশ পাবে।
এর আগে এপ্রিলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের সংস্থাকে ৫৮ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি সামলাতে ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক রিচার্ড গোয়ান বলেন, “গুতেরেস হয়তো আশা করছেন, এই ছাঁটাই দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি কিছুটা কমানো যাবে।”
“কিন্তু এটা সম্ভব হতে পারে আবার তেমনি উল্টোটাও হতে পারে যেমন, ট্রাম্প প্রশাসন এই ছাঁটাইকে স্থায়ী ধরে নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতে পারে,” বলেছেন তিনি।