Published : 23 Jun 2026, 05:11 PM
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে তথ্য দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গুজব বা আদালতে বিচারাধীন বিষয় জাতীয় সংসদের আলোচ্য বিষয় হতে পারে না।
পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্পিকার।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আগের দিন সরকারদলীয় চিফ হুইপ বাজেট অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করতে সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি ও মনোযোগী অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি কয়েকটি বিষয় সংসদের নজরে আনতে চান।
তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। আমাদের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং এই সংসদের একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান জনাব মির্জা আব্বাসের শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এই পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পেরেছে বলে আমার মনে পড়ে না।”
মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চান তিনি।
একই সঙ্গে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলায় জড়িত দুই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, মামলাগুলো চলমান থাকলেও তারা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন কি না, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করা প্রয়োজন।
বক্তব্যে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গও তোলেন এই সংসদ সদস্য। এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ‘গুজব’ ছড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা আসা দরকার।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, শরীফ ওসমান হাদিকে ঘিরে যে ‘গুজবের ডালপালা ছড়িয়েছে’, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
“সেই গুজবে আগুনে ঘি ঢেলেছে সর্বশেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে বক্তব্য ছিল, ‘আমি যদি নাম বলে দিই, তাহলে বাংলাদেশে এটা নিয়ে উথাল-পাথাল হবে।’”
তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও সংসদকে ব্রিফ করা প্রয়োজন।
এ সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি দাঁড়িয়ে বলেন, মির্জা আব্বাসের বিষয়ে স্পিকার তথ্য দিতে পারেন। তবে ঋণখেলাপি দুই সংসদ সদস্যের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
তিনি বলেন, “এটা সাবজুডিস ম্যাটার। কোর্ট সিদ্ধান্ত দিলেই কেবল সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।”
পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে সংসদের সময় নষ্ট না করারও আহ্বান জানান তিনি।
এরপর স্পিকার বলেন, “আমি বলতে যাওয়ার আগেই আপনি বলে ফেলেছেন।”
মির্জা আব্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, “জনাব মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি এখানে আসবেন।”
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ জ্ঞান হারালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম দ্রুত মির্জা আব্বাসের মতিষ্কে অস্ত্রোপচার করে।
তার পর ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা একমাসের চিকিৎসায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ফিজিও থেরাপির জন্য মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি সেখানে আছেন।
ঋণখেলাপি দুই সংসদ সদস্যের বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সংসদকে তা জানানো হবে।
তিনি বলেন, “কোনো সংসদ সদস্য যদি সদস্যপদ চলে যায়, যথাসময়ে সংসদ থেকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
গুজবের প্রসঙ্গে স্পিকার কঠোর অবস্থান নেন।
তিনি বলেন, “গুজব কে কী বলেছে, কার সম্পর্কে কী গুজব, এগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ সময় নষ্ট করতে পারে না।”
পয়েন্ট অব অর্ডারে চলমান ও প্রাসঙ্গিক বিষয় উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, “পয়েন্ট অব অর্ডার বলার সময় আপনারা চলমান বিষয়ের উপরে কিছু বলবেন। অযথা সংসদের সময় নষ্ট হয় এমন কিছু উত্থাপন তুলবেন না।”
তিনি বলেন, “গুজব কখনো জাতীয় সংসদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”
আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান স্পিকার।