Published : 17 Jun 2026, 11:34 PM
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সদ্যই সই হয়েছে। আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা। তার মধ্যেই আবার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত নয়। চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে তিনি আবার ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন। ফ্রান্সে জি সেভেন দেশগুলোর সম্মেলনে অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে প্যারিসে রয়েছেন।
বুধবার সেখানেই এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত নয়। এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমি এটি পছন্দ না করি, তবে আমরা আবার তাদের (ইরান) ওপর গুলি চালানো এবং তাদের মাথার ওপরই বোমা ফেলতে শুরু করব।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই প্রাথমিক চুক্তিতে কী কী আছে তার বিস্তারিত খুঁটিনাটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। সেকারণে ইরানকে কতটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা দাবি তুলেছেন, চুক্তিতে কী কী আছে সেই রূপরেখা তাদের দেখাতে হবে। তারা সন্দেহ করছেন, যুদ্ধ শেষ করার নামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে ওই হুঁশিয়ারি দিলেন। ইরান যদি চুক্তিতে অনড় না থাকে এবং ‘ভালো আচরণ না করে’ তা হলেও তাদের মাথার উপর বোমা ফেলা হলে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকটিতে গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চলবে। দুই পক্ষ রাজি থাকলে আলোচনার মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
সিএনএন-কে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এর ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই করতে আগ্রহী হয়েছে। তবে ওই প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা নথিতে উল্লেখ নেই।
সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিলেন, তার খুব কমই তার করা চুক্তির মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। কারণ, ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার এখনও বহাল রয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ধ্বংস করা যায়নি, হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করা যায়নি।
তাছাড়া, এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লেবাননের ভবিষ্যৎ। গত মার্চে ইসরায়েলি অভিযানের পর সেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা এখনও দক্ষিণ লেবানন দখল করে রেখেছে।
ইরান শর্ত দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হতে হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনীকে সেখান থেকে সরতে হবে। তবে শান্তি আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি করেছে।
হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে আছে কিনা তাও এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি। জি সেভেন নেতারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথাও বলেছেন।