Published : 09 Dec 2025, 09:23 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় যুদ্ধপরবর্তী 'শান্তি বোর্ডে’ সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
কিন্তু ইরাক যুদ্ধের ইতিহাসের কারণে সেই অবস্থান থেকে এবার বাদ পড়লেন ব্লেয়ার। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে জড়িয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার।
ওই যুদ্ধে ব্লেয়ারের ভূমিকার কারণে আরব ও মুসলিম দেশগুলো গাজা ‘শান্তি বোর্ড’- এ তাকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় শান্তি ফেরাতে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা পেশ করে।
সেখানেই লেবার দলের সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে পরিচয় করানো হয় গাজায় যুদ্ধপরবর্তী ‘শান্তি পরিষদ’–এর সদস্য হিসাবে।
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসন তদারকের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
বলা হয়েছিল, জাতিসংঘ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে ‘গাজা ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজিশনাল অথরিটি’ (গিটা) নামে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব দিতে পারেন ব্লেয়ার।
তিনি ২৫ জনের একটি দল এবং ৭ জন বোর্ড সদস্যর মাধ্যমে গাজার বাইরে মিশর থেকে প্রশাসন তত্ত্বাবধানের কাজ পরিচালনা করবেন।
৫ বছরের জন্য গাজার ‘সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও আইনি কর্তৃপক্ষ’ হিসাবে থাকার জন্য এই প্রশাসন জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অন্বেষণ করবে। পরে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে ফিলিস্তিনিদের হাতে।
গত অগাস্টে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকেও অংশ নেন টনি ব্লেয়ার। যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে গাজা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল।
কিন্তু ৭২ বছর বয়সী টনি ব্লেয়ার আঞ্চলিক নেতাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন ইরাক যুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে টনি ব্লেয়ার ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলে সেই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ সংক্রান্ত সরকারি তদন্তে বলা হয়, ব্লেয়ার তৎকালীন গোয়েন্দা তথ্যের ভুল ও অসম্পূর্ণতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিশেষত, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
অতীত সেই ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই গাজা শান্তি বোর্ডে তাকে শীর্ষ পদে রাখার চিন্তাভাবনা থেকে নীরবে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে শান্তি আলোচনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ পত্রিকা।
তবে ব্লেয়ারকে শীর্ষপদে রাখা না হলেও পার্শ্ব কোনও ভূমিকা পালনের জন্য রাখা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে খবরে।
‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকা জানায়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ এতদিন পর্যন্ত নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থাকা একমাত্র ব্যক্তি হিসাবে ব্লেয়ারের নামই উচ্চারিত হয়ে এসেছে।
তবে অক্টোবরে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারকে পছন্দ করেন। তবে তার পক্ষে গাজা শান্তি পরিকল্পনায় জড়িত অন্যান্য দেশগুলোর সমর্থন আছে কিনা সে বিষয়ে তাকে এখনও নিশ্চিত হতে হবে।
তিনি সে সময় বলেছিলেন, “আমি সবসময় টনিকে পছন্দ করি। কিন্তু তিনি সবার কাছে পছন্দনীয় কিনা সেটি আমি খতিয়ে দেখতে চাই। টনি সবার কাছে জনপ্রিয় হবেন কিনা সেটি আমি দেখতে চাই। কারণ আমি এটা জানি না।”