Published : 17 Oct 2025, 12:03 PM
ভারতে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যাওয়া কেনিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা রাইলা ওডিঙ্গাকে শেষ দেখা দেখতে নাইরোবি স্টেডিয়ামের একটি ফটক ভেঙে ঢোকা বিপুল সংখ্যক লোককে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ার পর ৪ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার নাইরোবির প্রধান স্টেডিয়ামে এ গুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কেনিয়ার কয়েক দশকের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ওডিঙ্গা একসময় রাজবন্দিও ছিলেন, তিনি ৫ বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেও পরাজিত হয়েছেন।
৮০ বছর বয়সী এ রাজনীতিক বুধবার ভারতে মারা যান, সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল।
তাকে শেষ দেখা দেখতে বুধবার ভোর থেকেই নাইরোবির সড়কগুলোতে দেখা যায় হাজারো সমর্থককে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক লোক নাইরোবির প্রধান স্টেডিয়ামের একটি গেইট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, সেনারা বাধ্য হয়ে আকাশে গুলি ছোড়ে বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, স্টেডিয়ামে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা চারে উন্নীত হয়েছে বলে পরে স্থানীয় কেটিএন নিউজ ও সিটিজেন টিভি জানায়। আহতের সংখ্যা অনেক।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছোড়ার পর পুলিশ হাজার হাজার শোকার্ত মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে স্টেডিয়াম খালি করে দেয় বলে দুই সম্প্রচারমাধ্যমে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে।
দিনের শুরুতে নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো শোকার্ত সমর্থকের হানায় ওডিঙ্গার মৃতদেহ সামরিক কায়দায় গ্রহণ করার একটি অনুষ্ঠানে সাময়িক ব্যাঘাতও ঘটে। বিমানবন্দরের ওই অনুষ্ঠানে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ওডিঙ্গার মৃতদেহ গ্রহণ করেন ও শ্রদ্ধা জানান।
এ আয়োজনের কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
জনগণকে দেখার সুযোগ করে দিতে সরকার ওডিঙ্গার মরদেহ প্রথমে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে রাখার কথা ঘোষণা করেছিল। যে কারণে পার্লামেন্টের আশপাশের সড়কেও বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সমর্থকের একাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা টপকে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ারও চেষ্টা করে।
বেশিরভাগ সময় সরকারবিরোধী নেতা থাকলেও ওডিঙ্গা ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, বারবার জোট বদল করা এ রাজনীতিক গত বছর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রুটোর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায়ও উপনীত হয়েছিলেন।
সমর্থকদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী, বিশেষ করে তিনি যে জাতিগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন সেই লুও গোষ্ঠীর অনেকের বিশ্বাস, নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে ওডিঙ্গাকে প্রেসিডেন্ট হতে দেওয়া হয়নি।
বুধবার শোক জানাতে নাইরোবিতে যে সমর্থকদের দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগই তরুণ, যাদের অনেকের ১৯৯১ সালে জন্মই হয়নি। ওই বছরই কেনিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রবেশ করে।
“বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য ক্লান্তিহীনভাবে লড়াই করে গেছেন তিনি, তার সংগ্রামের কারণেই আমরা আজ এমন স্বাধীনতা ভোগ করছি,” নাইরোবি স্টেডিয়ামে রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেলিক্স আম্বানি ইউনেক।
ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিঙ্গ