গ্রিসে ঝড়বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ৬ মৃত্যু

ঝড় ড্যানিয়েলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রিসের মধ্যাঞ্চলীয় থেসেলি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2024, 04:18 AM
Updated : 11 Feb 2024, 04:18 AM

গ্রিসে তিন দিন ধরে চলা ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে কয়েকশ কোটি ইউরোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছয়জনের। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সোমবার থেকে ঝড় ড্যানিয়েলের এ তাণ্ডব শুরু হয়েছিল। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে প্রাণঘাতী এক দাবানলের কয়েকদিন পরই শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে, ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, ফসলহানি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং বহু গাড়ি কাদাপানির স্রোতে ভেসে গেছে।

ঝড় ড্যানিয়েলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রিসের মধ্যাঞ্চলীয় থেসেলি। শুক্রবারও ওই অঞ্চলের কয়েকশ মানুষ তাদের ঘরবাড়ির ছাদে ও উঁচু স্থানে আটকা পড়ে ছিলেন। 

আবহাওয়াবিদ জর্জ সাত্রাফিলিয়াস জানিয়েছেন, একটি অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় লন্ডনের সারা বছরের গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। 

থেসেলি অঞ্চলের গভর্নর কোসতাস আগোরাস্তোস বলেছেন, ২০২০ সালের ব্যাপক বন্যায় ৭৫ কোটি ইউরোর ক্ষতির চেয়ে ঝড় ড্যানিয়েলে প্রায় তিনগুণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করে দেখেছেন তিনি।

শুক্রবার গ্রিসের দমকল বিভাগ জানায়, মঙ্গলবারের থেকে শুরু করে দেশের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৮০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে তারা।

কারদিস্তা শহরের কাছে ভলোচোস গ্রামের প্রায় দেড়শ বাসিন্দা তিন দিন ধরে একটি উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেখানে দিমিত্রিস নামের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা পর্বতে আশ্রয় নিয়ে আছি। তিন দিন ধরে কোনো খাবার নেই, কিছুই নেই। আমাদের ফ্রিজগুলোতে খুঁজে খুঁজে যা কিছু পাওয়া গেছে তা রান্না করতে গতকাল শেষ চুলা ধরিয়েছিলাম।”

থেসেলির কিছু এলাকা এখনও দুই মিটার গভীর পানির নিচে ডুবে আছে। এটি গ্রিসের গম উৎপাদনের প্রধান অঞ্চলগুলোর একটি। গ্রিসের বার্ষিক কৃষি উৎপাদনের ১৫ শতাংশ সেখান থেকে আসে। অঞ্চলটি তুলা উৎপাদনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এবারের পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় উর্বর এ অঞ্চলটি এক মিটারেরও বেশি বালি ও পাথর মিশ্রিত কাদার নিচে চাপা পড়েছে। এতে ব্যাপক ফসলহানির পাশাপাশি অঞ্চলটি উর্বরতা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সংবাদসূত্র: রয়টার্স 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)