১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করতে সময় লাগতে পারে ছয় মাস

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করতে সময় লাগতে পারে ছয় মাস
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Apr 2026, 06:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণ করে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে জানানো হয়েছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নৌ-অবরোধের কারণে এই পথটি প্রায় বন্ধই রয়েছে। 

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হলেও এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও মাইন পরিষ্কার করে পথটি নিরাপদ করতে মাসের পর মাস সময় লেগে যাবে।

প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মাইন অপসারণ অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পেন্টাগনের এই মূল্যায়নটি হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের এক গোপন ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে যে, ইরান হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশে ২০টি বা তারও বেশি মাইন পেতে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু মাইন রিমোট কন্ট্রোল এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

বিষয়টি নিয়ে এএফপি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন।

ওদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ বিস্তৃত, যা প্যারিস শহরের আয়তনের চেয়েও ১৪ গুণ বড়। বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলজুড়ে মাইন পাতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ।