Published : 31 Jan 2026, 06:05 PM
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নবাদীদের ‘সমন্বিত’ হামলায় অন্তত আট পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
আল জাজিরা জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর রাত ৩টার দিকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে স্থানীয় জাতিগত বেলুচ বন্দুকধারীরা একযোগে হামলা চালায়।
আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী খনি সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানে কয়েক দশক ধরে চলা একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনে লড়াই করে আসছে পাকিস্তান। প্রদেশটিতে বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয় নন এমন লোকজনের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
কোয়েটা থেকে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, “এই সমন্বিত বন্দুক ও আত্মঘাতী হামলা বেলুচিস্তানজুড়েই চালানো হয়েছে; বিশেষ করে কোয়েটা, পাসনি, মাসতুং, নুশকি ও গোয়াদর জেলায়।”
এসব হামলায় কতোজনের মৃত্যু হয়েছে তা উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “দুর্বল পরিকলপনার জন্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় কারণে হামলাগুলো ব্যর্থ হয়।”
পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার খবর হয়েছে। বেলুচিস্তানে ইন্টারনেট ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রেখে নিরাপত্তা অভিযান চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের ১২টি এলাকায় সমন্বিত আক্রমণ হওয়ার পর সংঘর্ষ অব্যাহত আছে আর নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৫৮ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।
প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বিএলএ জানিয়েছে, তারা বন্দুক ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোকালে সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যস্থল করেছে।
শেষ খবর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বিএলএ-র দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
একদিন আগে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা বেলুচিস্তানে চালানো দুটি পৃথক অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সেগুলো কাজে না লাগানোয় বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হয়ে রয়েছে।