Published : 11 Dec 2025, 09:43 AM
নোবেল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে পৌঁছান ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
চলতি বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদো গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে ছিলেন; নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের দেওয়া দশক পুরনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি মঙ্গলবার গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়েন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৫৮ বছর বয়সী এ প্রকৌশলী শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সময় বুধবার রাতে অসলো পৌঁছান। এদিনই কয়েক ঘণ্টা আগে তার হয়ে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন মেয়ে আনা কোরিনা সোসা মাচাদো।
পরে অসলোর গ্র্যান্ড হোটেলের লবিতে জড়ো হওয়া লোকজনকে নরওয়ের নোবেল কমিটির প্রধান ইয়রগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী নেত্রীর অসলোতে পৌঁছানোর খবর দেন। সাধারণত এই গ্র্যান্ড হোটেলেই নোবেলজয়ীদের রাখা হয়।
মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলা ছাড়া মাচাদো প্রথমে নৌকায় করে ক্যারিবীয় দ্বীপ কুরাসাওয়ে যান, সেখান থেকে একটি প্রাইভেট বিমানে চেপে তিনি নরওয়ে পৌঁছান বলে এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে তার পালানোর পুরো প্রক্রিয়াটিই তার নিরাপত্তাকর্মীরা সামলেছে বলে মাচাদোশিবিরের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সূত্রটি। ভেনেজুয়েলার এ নেত্রীর কুরাসাও যাত্রা প্রসঙ্গে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাতে সাড়া দেয়নি হোয়াইট গাউস।
বিবিসি লিখেছে, বুধবার রাতেই গ্র্যান্ড হোটেলের ব্যালকনিতে দেখা যায় মাচাদোকে। এসময় তিনি নিচে উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, সমর্থকদের সঙ্গে গানে গলাও মেলান। পরে হোটেল ভবনের বাইরে এসে নিরাপত্তা ব্যারিকেড টপকে সমর্থকদের কাছে ছুটে যান এ নোবেলজয়ী।
অক্টোবরে পুরস্কার জেতার পর মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে চেয়েছিলেন, যদিও এ বছর তার সেই আশা পূরণ হয়নি।
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট এখন তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ জন্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিপুল সৈন্য, যুদ্ধযান ও রণতরী জড়ো করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তিনি সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মাচাদো আগে থেকেই তার দেশে মার্কিন হামলার পক্ষে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যে কোনোভাবে মাদুরো সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান তিনি নিয়মিত দিয়েও যাচ্ছেন।