Published : 26 Oct 2025, 02:02 PM
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা এক ব্যক্তির ওপর মধ্য গাজায় ‘সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে তারা।
গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি এখন কার্যকর থাকলেও দু্ই পক্ষই নিয়মিত একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছে।
তার মধ্যেই শনিবার এ হামলা চালানোর কথা ইসরায়েল স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্রগোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের এক সদস্য। তবে এ হামলা বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামিক জিহাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তারা একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা হতে দেখেছেন, এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় চারজনের আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা; এখন পর্যন্ত কারও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এর বাইরে গাজার সবচেয়ে জনবহুল এলাকা গাজা সিটির পূর্বাংশে ইসরায়েলি কামান গোলাবর্ষণ করেছে বলেও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাড়া দেয়নি।
একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাজায় বিদেশিদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার যে নীতি তেল আবিবের ছিল তা বদলে তারা এখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে মিশরের কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এ কর্মকর্তারা গাজায় নিহত ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ খুঁজে পেতে সহায়তা করবেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস আচমকা ইসরায়েলে ঢুকে কয়েকশ মানুষকে হত্যা ও আড়াইশ লোককে জিম্মি করে। ওই ঘটনাই গাজা ঘিরে দুই বছরের যুদ্ধের সূচনা ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাতে জীবিত-মৃত সব জিম্মিকে ইসরায়েলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা হামাসের। এরই মধ্যে তারা জীবিত সব জিম্মিকে ছেড়েও দিয়েছে, মৃত অন্তত ১৫ জনের দেহ ফিরিয়ে দিতে পারলেও এখনও ১৩ জনের দেহ গাজাতেই রয়ে গেছে।
হামাস বলছে, প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় জিম্মিদের মরদেহ খুঁজে পেতে ও শনাক্তে সময় লাগছে। এজন্য বাইরের সাহায্যও চেয়েছে তারা।
এসব প্রসঙ্গে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।