Published : 15 May 2026, 11:19 PM
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শুক্রবার কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দেওয়ায় আয়োজক ভারত শেষ পর্যন্ত কেবল চেয়ারম্যানের বিবৃতি প্রকাশ করে সম্মেলন সমাপ্ত করেছে।
বৈঠকে ইরান চাইছল ব্রিকস জোট যেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে ইরান অভিযোগ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়িত।
যদিও গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাতে।
ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতের প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়া/মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম না নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ব্রিকসের একটি সদস্য দেশ বিবৃতির কিছু অংশ আটকে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ওই দেশের সঙ্গে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। চলমান যুদ্ধে তারা আমাদের লক্ষ্য ছিল না। আমরা কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা করেছি, যেগুলো দুর্ভাগ্যবশত তাদের ভূখন্ডে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বছরের শেষ দিকে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
আরাকচি বলেন, “আশা করি, শীর্ষ সম্মেলনের সময়ের মধ্যে তারা বুঝতে পারবে যে, ইরান তাদের প্রতিবেশী। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাশাপাশি বাস করেছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো নিজ নিজ জাতীয় অবস্থান তুলে ধরেছে এবং নানা মতামত শেয়ার করেছে।
এর মধ্যে ছিল- সংকট আগাম সমাধানের প্রয়োজনীয়তা, আলোচনা ও কূটনীতির গুরুত্ব, বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর মতো বিষয়।
বৈঠকের আলোচনায় আরও ছিল আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও বাধাহীন বাণিজ্য নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের জীবন রক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান:
সম্মেলনের বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, গাজা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা পশ্চিম তীর ও গাজাকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে একত্রিত করার গুরুত্বের কথাও বলেছেন।
তাছাড়া, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকেও সমর্থন জানানো হয়েছে বৈঠকে। তবে বিবৃতিতে কোনও নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, গাজা নিয়ে একটি সদস্য দেশের আপত্তি ছিল।
২০২৬ সালের ব্রিক্স এর সভাপতি দেশ হিসেবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সদস্যদেশগুলো।
‘গ্লোবাল সাউথ ইতিবাচক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে অর্থনৈতিক মন্দা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ এবং অভিবাসন সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
ব্রিক্সের দেশগুলোর মধ্যে আছে- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইথিওপিয়া, মিশর, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব।