১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানার হুমকি ইরানের

ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুমকি দেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সতর্কবার্তাটি পাঠানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানার হুমকি ইরানের
তেহরানের আজাদি চত্বরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 11:23 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ইরান পারস্য উপসগারীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো নতুন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানবে তারা। 

পাঁচটি সূত্র এমন তথ্য দিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সবগুলো সূত্রই তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।    

সূত্রগুলো জানায়, ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুমকি দেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের এক তড়িৎ তৎপরতার মধ্য দিয়ে সতর্কবার্তাটি পাঠানো হয়েছিল। 

এই আলোচনার বিষয়ে অবগত দুজন ঊধ্র্বতন ইরানি কর্মকর্তা, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর দুটি সূত্র ও একজন জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন।       

ওই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানান, ট্রাম্পকে নতুন হামলা শুরু করা থেকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান আরাকচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের এই বলে সতর্ক করেন, ইরানে কোনো হামলা হলে এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্যস্থল করবে তেহরান। প্রত্যেকের সঙ্গে তিনি একই কথা বলেন।  

ওই কূটনীতিকের ভাষ্যমতে আরাকচি বলেছেন, “আমরা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত, কিন্তু কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ব্যাপক বিস্তারি ও ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায়।”

উপসাগরীয় এক সূত্র বলেছে, “ইরানের জানানো সতর্কতা দ্ব্যর্থহীন ছিল: যদি আমেরিকানরা ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যস্থল করে তবে তারা উপসগারের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য আঞ্চলিক লক্ষ্যস্থলগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।” 

এর পরপরই সৌদি যুবরাজ সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে তাকে সামরিক পদক্ষেপ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় ফেরার অনুরোধ জানান।   

রয়টার্স লিখেছে, এই কূটনীতিক তৎপরতাটি তুলে ধরেছে কিভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামিরক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আঞ্চলিক হামলার হুমকিকে দরকষাকষির উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা ও জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক কঠিন অবস্থায় পড়েছে। 

উপসাগরীয় আরেক সূত্র জানিয়েছে, সতর্কবার্তাটি প্রতিটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, তবে তা সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছিল।  

গত কয়েক বছরে ইরান উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করেছে। এদের মধ্যে সাবেক আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবও আছে।  

দ্বিতীয় ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সতর্কতা জানানোর পর কাতার, ওমান ও সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে নতুন সংঘাত এড়িয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানায়। ওয়াশিংটনকে তারা বলে ফের মার্কিন হামলা শুরু হলে ‘পুরো অঞ্চল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে’।  

২ অগাস্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ‘দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর’ শর্তে ইরানের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ পরিকল্পনা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন।  

আরও পড়ুন: 

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি 'চূড়ান্ত পর্যায়ে': ইরান

প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান

২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণ দুবাইয়ের শিল্পাঞ্চলে, হামলা না দুর্ঘটনা?