১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ ব্রিটিশ এমপির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

১২ ব্রিটিশ এমপির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরায়েল
গিডিওন সার। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 12:50 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করল ইসরায়েল। ১২ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করল তেল আবিব।

‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকা জানায়, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার মঙ্গলবার বিকালে ব্রিটিশ লেবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এও দাবি করেন যে, নির্বাচিত কর্মকর্তারা ইহুদি-বিরোধী এবং ইসরায়েল-বিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে গিডিওন সার জোর দিয়ে বলেন, লেবার সরকারের বৈরি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া তার আর কোনও উপায় ছিল না।

এড মিলিব্যান্ড ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছিলেন,পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ইসরায়েল সরকার তা দেখেও দেখছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পশ্চিম তীরের বসতি এলাকা থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জনগণ চায় না আমাদের দোকানগুলোতে ইহুদি বসতি এলাকার পণ্য নেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে সমর্থন করা হোক।

এরই প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার একটি বিবৃতি দিয়ে ১২ ব্রিটিশ এমপি’র বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন এবং নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই এমপি’রা হলেন: জেরোমি করবিন, জারা সুলতানা, ফাহাদ আনসারি, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্নাহ স্পেনসার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাওনস, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বারগন ও অ্যাড্রিয়ান রামসে।

গিডিওন সার এই নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরও কিছু পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন: জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা এবং কিরিয়াত গাত-এর ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার (আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র) থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়া।

রামাল্লায় অবস্থিত ব্রিটিশ সাপোর্ট টিমের অধীনে জুডিয়া এবং সামারিয়ায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রমও বন্ধ করা হবে।

গিডিওন সার দাবি করেন যে, যুক্তরাজ্যে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লেবার পার্টি সরকার ইসরায়েলের প্রতি বৈরি মনোভাব দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি সরকার এবং বিশ্বের প্রতিটি সরকারকে বলতে চাই, যারা মনে করে যে, তারা ইসরায়েলকে নিজেদের জাতীয় ও নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে, তাদের সফল হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।"