Published : 05 Mar 2026, 05:07 PM
ক্যাপিটল হিলে রুদ্ধদ্বার এক ব্রিফিংয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ইরানের শাহেদ ড্রোন মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা হয়তো সেসব ড্রোনের সবই প্রতিহত করতে পারবে না।
মঙ্গলবারের ব্রিফিং সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সিএনএন।
ইরানের এ ড্রোনগুলো যে ধারণার চেয়েও বেশি সমস্যা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন তা স্বীকারও করে নিয়েছেন, বলেছে ব্রিফিংয়ে থাকা দুটি সূত্র।
এ ড্রোনগুলো খুব নিচ দিয়ে ধীরগতিতে ওড়ে, এ কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলো সহজেই শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এড়িয়ে যেতে পারে।
তবে ব্রিফিং সম্বন্ধে অবগত আরেকটি সূত্র বলছে, মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন, তাদের উপসাগরীয় অংশীদাররা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের সূচনা করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়ানক অস্থিতিশীল করতে পারে এসব হুমকি নিয়ে ক্যাপিটল হিলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ব্রিফিং দেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এদিকে মঙ্গলবারই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনাই ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ এবং ইরানের নেতাদের ওপর নতুন করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ইরানের ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি বলে ব্রিফিং সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে। কর্মকর্তারা উল্টো বলেছেন, ইরানে শাসনব্যস্থার পরিবর্তন তাদের কাছে ‘মূল লক্ষ্য’ নয়; মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, তাদের নৌবাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর আকাঙ্ক্ষা এবং অঞ্চলজুড়ে তাদের মিত্র সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।
কে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছেন বলে তাদের ধারণা, এমন প্রশ্নেও তাদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট জবাব মেলেনি বলে ব্রিফিং সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে। তাদের যৌথ অভিযানে খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের অনেকেও মারা পড়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। এদিকে তেহরান বলছে, নতুন উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খামেনির স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন তার নাম জানতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাত কতদিন চলতে পারে, ব্রিফিং থেকে বের হওয়া আইনপ্রণেতাদের উত্তরে এক্ষেত্রেও অমিল পাওয়া গেছে।
আলাবামার রিপাবলিকান সেনেটর টমি টুবারভিল বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সেখানকার কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে পারবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ব্রিফিংয়ে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের বলেছেন।
কিন্তু আরেক রিপাবলিকান, মিসৌরির সেনেটর জশ হাউলি বলছেন, কর্মকর্তারা অভিযান শেষের সম্ভাব্য কোনো তারিখ দেননি।
“আমার কাছে তো মনে হল, এটা কবে শেষ হবে তার ঠিক নেই,” বলেছেন তিনি।
নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরি জানান, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বা মাস চলতে পারে বলে ব্রিফিংয়ে থাকা কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
“যুক্তরাষ্ট্র বা ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি,” বলেছেন তিনি।
যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থ চাইলে তাতে সমর্থন দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তর জেফরি এড়িয়ে গেছেন।
ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডার খালি হয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
“আমাদের অসীম মজুদ নেই,” বলেছেন সেনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য, আরিজোনা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট মার্ক কেলি।
“ইরানিদের ব্যাপক পরিমাণ শাহেদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার, স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আছে, তারা মজুদও করে রেখেছে ব্যাপক। তাই এক পর্যায়ে এই অঙ্ক আমাদের করা লাগবে, আমরা কী করে আকাশ প্রতিরক্ষার গোলা পাঠাবো, ওগুলো কোথা থেকে আসবে?,” বলেছেন তিনি।
কংগ্রেস থেকে অনুমোদন না নেওয়া সত্ত্বেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক অভিযানকে তিনি ‘যুদ্ধ’ আখ্যা দিলেও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার রিপাবলিকান মাইক জনসন একে ‘অভিযান’ বলেছেন।
“এটি খুবই বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। তাৎক্ষণিক হুমকি থাকায় আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, তবে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি,” বলেছেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি অনেক রিপাবলিকানও ইরানে ওয়াশিংটনের এ সামরিক পদক্ষেপকে আফগানিস্তান ও ইরাকের সঙ্গে তুলনা দিয়ে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন না নেওয়া ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করছেন।
তবে ট্রাম্পের পক্ষে থাকা রিপাবলিকানরা উদাহরণ টানছেন লিবিয়ায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের, সেবারও প্রেসিডেন্ট অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি।