Published : 15 Jan 2024, 11:56 AM
ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজায় বন্দি তিন ইসরায়েলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। ভিডিওতে ইসরায়েলি জিম্মিরা গাজা শাসনকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য ইসরায়েলের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তারিখবিহীন ৩৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইসরায়েলি জিম্মি নোয়া আরগামনি (২৬), ইয়োসি শারাবি (৫৩) ও ইতাই সিভরস্কিকে (৩৮) দেখা গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ‘আগামীকাল আমরা তাদের ভাগ্য সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করবো’ এমন একটি ক্যাপশনের মধ্য দিয়ে ভিডিওটি শেষ হয়।
রোববারের প্রথমদিকে হামাস জানায়, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলার্ষণের কারণে তারা কিছু জিম্মির সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছে। গোলাবর্ষণের কারণে ওই জিম্মিদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
জিম্মিদের বিষয়ে হামাসের প্রকাশ্য বার্তাকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করে ইসরায়েল, তাই সাধারণত এ বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হন না।
গাজায় মৃত অবস্থায় পাওয়া ইসরায়েলি জিম্মিদের ময়নাতদন্তকারী ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক কর্মকর্তা হেগার মিজরাহী ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় টেলিভিশনকে জানান, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তে পাওয়া কারণগুলো হামাসের এমন দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
তবে ইসরায়েল পরিষ্কার করে জানিয়েছে, তাদের হামলা জিম্মিদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে এ বিষয়ে তারা সজাগ আছে এবং এর জন্য পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করছে।
রোববার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল দানিয়েল হাগরি বলেছেন, “সামরিক অভিযানে সময় লাগে। এটি আমাদের সুনির্দিষ্ট হতে বাধ্য করে আর আমরা হুমকি ও যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা জিম্মিদের সঙ্গে এটিকে মানিয়ে নিচ্ছি।”
৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে হামাসের যোদ্ধাদের চালানো নজিরবিহীন হামলা গাজা যুদ্ধের সূচনা করে। ওই হামলাকালে ইসরায়েল থেকে ২৪০ জনের মতো মানুষকে বন্দিকে গাজায় এনে জিম্মি করে রাখে হামাস। মাঝে নভেম্বরে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি চলাকালে তিনগুণ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে প্রায় অর্ধেক জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস।
বন্দি থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি হামলা ও অন্যান্য কারণে আরও ২৫ জিম্মির মৃত্যু হয়। আর এখনও ১৩২ জন জিম্মি হামাসের হাতে বন্দি আছে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে।
কিছু জিম্মির স্বজনরা হামাসের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা এমনকি যুদ্ধ বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে। কিন্তু হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে নেতানিয়াহু আর যুদ্ধ করেই জিম্মিদের উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
গাজা যুদ্ধের ১০০ দিন, নেই কোনো আশার আলো