Published : 04 Jul 2026, 08:06 PM
ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত শহর কস্তানতিনিউকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রুশ সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এ বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেন শীর্ষ কমান্ডাররা।
পুতিন এই অর্জনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে ইউক্রেইন এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা এই যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে রাশিয়ার চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে রুশ বাহিনীর সাউদার্ন গ্রুপ আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সেনারা শত্রুপক্ষের অন্যতম প্রধান রক্ষণাত্মক ঘাঁটি কোস্তিয়ান্তিনিভ্কা শহরটি মুক্ত করেছে।”
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে বিধ্বস্ত বিভিন্ন ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা ধরে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া গেরাসিমভ জানান, রুশ বাহিনী উত্তর দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিম্যান শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা পরবর্তী অভিযানের জন্য রসদ সরবরাহ ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, রাশিয়ার তেল শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেইনের দূরপাল্লার হামলা বেড়ে যাওয়ার জবাবে প্রতিবেশী ভূখণ্ডে ‘বাফার জোন' আরও বাড়াতে হবে।
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভগেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, রুশ ভূখণ্ডে জ্বালানি সংকট তৈরি করা ইউক্রেইনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি বন্ধ করার কাজটি তারা এখনো সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তবে খারকিভ ও সুমাই অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে।

পুতিন এর জবাবে বলেন, "শত্রুরা আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি আক্রমণ করার চেষ্টা করবে, আমাদের প্রতিবেশী ভূখণ্ডে তত বড় নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করতে হবে।"
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্য কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে চলতি বছরের শুরু থেকে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কিইভের বাহিনী কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে। পুতিন এই দাবিকে ইউক্রেইনের সাজানো ‘তথ্য অভিযান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে পুতিনকে একটি খোলা চিঠি পাঠালেও রাশিয়ার নেতা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, ইরানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিইভ উভয় পক্ষই আশা করছে যে শীর্ষ দুই মার্কিন মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার শিগগিরই এই বিষয়ে আলোচনার জন্য সফর করবেন।