ভোট দেওয়ার বয়স ১৮ বছর ‘বৈষম্যমূলক’, রায় নিউ জিল্যান্ডের আদালতের

সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ে ভোট দেওয়ার বয়স কমানো উচিত কিনা, এ নিয়ে আলোচনার চাপে পড়েছে নিউ জিল্যান্ডের পার্লামেন্ট।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2022, 04:46 AM
Updated : 21 Nov 2022, 04:46 AM

নিউ জিল্যান্ডের বিদ্যমান ১৮ বছরে ভোট দেওয়ার বয়সকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

সর্বোচ্চ আদালতের সোমবারের এ রায়ে ভোট দেওয়ার বয়স কমানো উচিত কিনা, এ নিয়ে আলোচনার চাপে পড়েছে নিউ জিল্যান্ডের পার্লামেন্ট।   

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘মেক ইট সিক্সটিন’ ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ভোটের অধিকার দেওয়ার দাবিতে ২০২০ সালে মামলাটি দায়ের করেছিল।

এই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ভোট দেওয়ার বিদ্যমান বয়স ১৮ বছর নিউ জিল্যান্ডের সংবিধানে ঘোষিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ওই ঘোষণায় কোনো ব্যক্তির বয়স ১৬ বছর হওয়ার পরই বয়সজনিত বৈষম্য থেকে তাকে মুক্ত হওয়ার অধিকার দিয়েছে।  

আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর এখন ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার জন্য পার্লামেন্টের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটি দ্বারা পর্যালোচিত হতে হবে। কিন্তু এই রায় পার্লামেন্টকে ভোট দেওয়ার সর্বনিম্ন বয়স পাল্টাতে বাধ্য করতে পারবে না।

এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ‘মেক ইট সিক্সটিন’ গোষ্ঠীর সহপরিচালক কেইডেন টিপলার বলেছেন, “এটাই ইতিহাস। সরকার ও পার্লামেন্টে এ ধরনের পরিষ্কার আইনি ও নৈতিক বার্তা উপেক্ষা করতে পারবে না। তাদের অবশ্যই আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার দিতে হবে।” 

গোষ্ঠীটি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, ১৬ বছর বয়সীরা যখন গাড়ি চালাতে, পূর্ণ সময় কাজ করতে ও ট্যাক্স দিতে পারছে তখন তাদের ভোটের অধিকার না দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ন্যায্যতা নেই।

এই বিষয়ে নিউ জিল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গী মিশ্র। গ্রিন পার্টি চায়, অবিলম্বে ভোট দেওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৬ করা হোক; কিন্তু বৃহত্তম বিরোধীদল ন্যাশনাল পার্টি এই দাবিকে সমর্থন করে না।

ন্যাশনাল পার্টির নেতা ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, “স্পষ্টতই আমাদের কোথাও একটি লাইন টানতে হবে। লাইনটি ১৮-তে হওয়াইতেই আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।”  

আদালতের এই রায়ের বিষয়ে ক্ষমতাসীন লেবার দলীয় সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক