Published : 29 Jan 2026, 02:45 PM
ভারতে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের মতো পাকিস্তানও সংক্রমণ রোধে নজরদারি জোরদার করেছে।
ভাইরাসের উপসর্গ আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ অন্য দেশ থেকে পাকিস্তানে ঢুকছে এমন ব্যক্তিদের বিস্তৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর আগে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম তাদের বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কড়া নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছিল।
নিপা ভাইরাসে জ্বর ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যু হার অনেক বেশি। এর কোনো প্রতিষেধক টিকাও নেই। ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে সহজে স্থানান্তরও হয় না। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ থাকলে ভাইরাস অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ায়।
“পাকিস্তানের সীমান্তে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করাটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দেশে ঢোকার সময় সব যাত্রীকেই তাপ পরিমাপক পরীক্ষা ও ক্লিনিকাল পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে,” বিবৃতিতে বলেছে পাকিস্তানের সীমান্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।
‘নিপা আক্রান্ত বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হয়ে এসেছেন কিনা তা জানতে পাকিস্তানে প্রবেশের সময় সব যাত্রীকেই তার আগের ২১ দিন কোথায় কোথায় ছিলেন সে বিষয়ক তথ্য দিতে হবে, বলেছে তারা।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। গত বছর কয়েক দশকের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতও এখন খুবই সীমিত।
এদিকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের স্বাস্থ্য বিভাগও বুধবার নোই বায় বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের, বিশেষ করে যারা ভারত ও দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিয়েতনামে নেমেছে, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছে।
কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা বুঝতে শরীরের তাপমাত্রা মাপার স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হবে।
“এতে সময়মতো আলাদা করে ফেলা ও সংক্রমণ বিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ মিলবে,” বিবৃতিতে বলেছে হ্যানয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ।
এর আগে ভিয়েতনামের সর্ববৃহৎ শহর হো চি মিন সিটির কর্তৃপক্ষও আন্তর্জাতিক সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি আনার কথা জানিয়েছিল।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী শনাক্ত করার খবর নিশ্চিত করে।
কর্তৃপক্ষ ওই দুই রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনের খোঁজ বের করে তাদের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করেছে; তবে কারও শরীরে ভাইরাসটি পাওয়া যায়নি, বলেছে তারা।
ভারতে দুই রোগী পাওয়ার খবর পেয়েই থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদারের ঘোষণা দেয়।
নিপা একটি বিরল ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা প্রধানত আক্রান্ত প্রাণী থেকে, বিশেষ করে ফল খাওয়া বাদুড় থেকে মানুষে ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কারও ক্ষেত্রে কোনো কউপসর্গাই দেখা যায় না। তবে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশই মারা যায়; এই মৃত্যুহার নির্ভর করে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ওপর, বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় ২৫ বছর আগে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের শূকরচাষীদের মধ্যে এক প্রাদুর্ভাবের সময়। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, ফল খাওয়া বাদুড়ের মাধ্যমে এটি হাজার হাজার বছর ধরেই মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আসছে।
নিপা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ভাইরাস। ভারতে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কেরালাকে নিপার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নিপা ভাইরাসে মোট ৭৫০ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের ৪১৫ জনই মারা গেছে বলে জানিয়েছে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন। নিপাকে আটকাতে টিকার ট্রায়ালের জন্য অর্থায়নও করেছে তারা।
ভারতে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ২, থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় নজরদারি জোরদার