১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে নতুন করে ইসরায়েলের হামলা, তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী এক্সে এক পোস্টে বলেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপস্থল ও অবকাঠামোগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানে নতুন করে ইসরায়েলের হামলা, তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ
ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jun 2025, 03:59 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:11 PM

ইরানে শুক্রবার ভোররাতে একাধিক স্থানে হামলার পর দিনের বেলায় আবার নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী এক্সে এক পোস্টে বলেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎেক্ষেপস্থল ও অবকাঠামোগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলা হয়েছে, তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে।

তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ এর অংশ হিসাবে ইরানজুড়ে এ হামলা চালিয়েছে।

 ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরে ইসরায়েল একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সংশ্লিষ্ট একটি বার্তা সংস্থা।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইরানের হুমকি নাটকীয় মোড় নেওয়ায় এই বিমান হামলা চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ইরান ‘ধ্বংসাত্মক পরিণতির’ হুমকি দিয়েছে।

 স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাবরিজে এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে অন্তত ১০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীও (আইডিএফ) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো হামলার কথা নিশ্চিত করে জানায়নি।

বিবিসি বলছে, তারা তেহরান, নাতাঞ্জ, তাবরিজ, কেরমানশাহ ও পিরানশাহর—এই পাঁচ শহর থেকে হামলার পরবর্তী ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেছে। এর মধ্যে নাতাঞ্জে রয়েছে ইরানের অন্যতম প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যেখানে দ্বিতীয় দফার হামলারও খবর পাওয়া গেছে।

তেহরানের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়েছে ভিডিওতে। একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।

ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই অভিযানে অংশ নিয়েছে অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান, জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা সূত্র।

 হামলার আগে ইরানের ভেতরে বিস্ফোরক ড্রোন পাচার করেছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ- এমন খবরও পাওয়া গেছে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। এসব ড্রোনের লক্ষ্য ছিল ইরানের ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারে আঘাত হানা।

এ পর্যন্ত ইরান যা পাল্টা জবাব দিয়েছে, তা অনেকটাই প্রতীকী। বড় পরিসরে ব্যালিস্টিক হামলার মতো কিছু এখনো দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত বছর অক্টোবরের মতো বড় হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের আর আগের মতো নেই।

অক্টোবরে ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টায় ইসরায়েল তেহরানের প্রতিরক্ষা ও ড্রোন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এবারও ইসরায়েলের আরও জোরাল হামলাই দেখা যাচ্ছে।

ইসরায়েল বলেছে—এই অভিযান একদিনের নয়। পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি তেহরানের প্রতিরোধের সক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।