০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সে দ্বিতীয়দফা ভোট: হতে পারে কট্টর-ডানদের জয় কিংবা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট

প্রথম দফা ভোটে জয় পাওয়া কট্টর-ডানপন্থি দল আরএন দ্বিতীয় দফা ভোটেও জয়ের আশা করছে। তবে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে হতে পারে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jul 2024, 09:16 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:11 PM

ফ্রান্সে পার্লামেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে। রোববারের এ ভোটে কট্টর-ডানপন্থি ন্যাশনাল ব়্যালিকে ঠেকাতে একজোট হয়ে লড়ছে মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দলগুলো।

গত রোববার ফ্রান্সে প্রথম দফা ভোটে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া মারিন লু পেনের কট্টর-ডানপন্থি ন্যাশনাল ব়্যালি (আরএন) দ্বিতীয় দফা ভোটেও জয়ী হওয়ার আশা করছে। 

তবে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে বলে সংশয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোটের ফলে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ারও শঙ্কা আছে।

তেমন হলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর কর্তৃত্ব মারাত্মখাবে খর্ব হবে এবং দেশটিতে দীর্ঘদিনের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অচলবাস্থা দেখা দিতে পারে।

কিন্তু যদি কট্টর-ডান দল আরএন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম কট্টর-ডানপন্থি সরকার পাবে ফ্রান্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গত মাসের নির্বাচনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কট্টর-ডানপন্থি দলগুলো থেকে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী জয় পেয়েছিল। ডাপন্থিদের এই জোয়ারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর মধ্যপন্থি দল খারাপ ফল করায় এর জেরে তিনি জুনে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে হয়ে যাওয়া প্রথম দফা ভোটে জয় পায় কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি। তাদের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে এরপর পার্লামেন্ট নির্বাচন থেকে শত শত প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয় ফ্রান্সের বাম ও মধ্যপন্থি দলগুলো।

একারণেই রোববারের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে মেরি লু পেনের দল আরএন এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। 

তবে সংখ্যাগিরষ্ঠতা না পেলেও ফ্রান্সে ডানপন্থি রাজনীতির ধারা আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাবে আরএন। প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ এবং বামপন্থি দলগুলোর সেটি একটি চিন্তার কারণ।

মাক্রোঁ গতমাসে আগাম নির্বাচন ডেকে নিজের দেশ তো বটেই পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত নিয়েও জুয়া খেলেছেন। আর সেটি করে তিনি তার বহু রাজনৈতিক মিত্র ও সমর্থককে নাখোশ করেছেন।

এখন ভোটের ফল যাই কোন না কেন মাক্রোঁর প্রেসিডেন্সি শেষের তিনবছর বাকি থাকার এই সময়ে তার রাজনৈতিক কর্মসূচি এখন মৃত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁর পক্ষে ভোট দেওয়া এক ভোটার বলেন, “আমাদের দেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক ধারা দেখার জন্য আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। দেশ পরিচালনা বিশৃঙ্খল অবস্থার মুখে পড়ার ঝুঁকি আছে।”

আরেকজন ভোটারও উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “কী ঘটতে চলেছে তা ভেবে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ভোটের ফলে যে রাজনৈতিক সমীকরণই হোক, আমরা সম্ভবত সংস্কারের ধারা অবসানের দ্বারপ্রান্তেই দাঁড়িয়ে আছি, যা শুরু হয়েছিল ১০ বছর আগে।”