Published : 23 Sep 2025, 04:06 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ‘নব্য ঔপনিবেশিক দমনযন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে এই আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার সামরিক শাসিত তিন দেশ মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ ঘোষণা দেয়। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টানা আটটি অভ্যুত্থানের পর সাহেল অঞ্চলে এ ঘোষণা নতুন কূটনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্স লিখেছে, এই তিন দেশ এর আগে পশ্চিম আফ্রিকান আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে এসে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ নামে নিজেদের একটি সংগঠন গঠন করেছে। পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হেগভিত্তিক আইসিসির সদস্য ছিল মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার। কিন্তু নতুন বিবৃতিতে তারা বলেছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আগ্রাসন কিংবা গণহত্যার বিচার করতে আদালত অক্ষম। তবে আদালতের ব্যর্থতার নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ তারা তুলে ধরেনি।
জঙ্গি তৎপরতা ও অভিযোগ
এই তিন দেশ এখন ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নিয়মিত সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করেছে, এসব জঙ্গির পাশাপাশি বুরকিনা ফাসো ও মালির সেনারা এবং তাদের সহযোগীরাও নৃশংসতা চালিয়েছে।
গত এপ্রিল জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মালির সেনারা কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিককে সংক্ষিপ্ত বিচার বা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে—যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইসিসির তদন্ত
২০১৩ সাল থেকে মালিকে ঘিরে আইসিসির একটি তদন্ত চলছে। এক সময় জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের গাও, টিমবাকটু ও কিদাল শহরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত করছে আদালত। ওই বছরেই ফ্রান্স সামরিক হস্তক্ষেপ চালিয়ে জঙ্গিদের পিছু হটিয়ে দিয়েছিল।
তদন্ত শুরুর পেছনে তৎকালীন মালির সরকারের উদ্যোগে করা অভিযোগপত্র ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।