Published : 10 Dec 2025, 07:25 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নতুন নিয়মে ভারতে বড় ধাক্কা খেল দক্ষ কর্মী ভিসা (এইচ১বি) প্রক্রিয়া। এই ভিসার জন্য বহু ভারতীয় আবেদনকারীর নির্ধারিত সাক্ষাৎকার আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যে সব ভিসা আবেদনকারী সাক্ষাৎকারের তারিখ পুনর্নির্ধারিত হওয়ার বিষয়ে ইমেইল পেয়েছেন, তাদেরকে নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে সাহায্য করবে ‘মিশন ইন্ডিয়া’।
নতুন সাক্ষাৎকারের দিনক্ষণ নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে সেক্ষেত্রেও সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।
তবে দূতাবাস আবেদনকারীদের সতর্ক করে এও বলেছে, সাক্ষাৎকারের পুনঃনির্ধারিত তারিখ জানানোর পরেও কোনও আবেদনকারী পুরনো তারিখে কনস্যুলেটে গেলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগ পর্যন্ত যাদের সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল সেগুলো আগামী বছর মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তবে ঠিক কতজনের আবেদনের তারিখ বদলেছে, তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
অভিবাসন বিষয়ক একটি শীর্ষ আইনি সংস্থার আইনজীবী স্টিভেন ব্রাউনের কথায়, “আমরা যা কানাঘুষো শুনেছি, মিশন ইন্ডিয়া-র বিবৃতি সেটিই নিশ্চিত করেছে। চলতি মাসের বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার বাতিল করে মার্চ মাসে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
“আমাদের ধারণা, আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল খুঁটিয়ে দেখার জন্য এই অতিরিক্ত সময় নিতে চাইছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।”
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের এইচ-৪ ভিসা দেওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, এইচ-১বি ভিসা মঞ্জুরের আগে যাচাইপ্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীর বায়োডেটা এবং ‘লিঙ্কডইন’ প্রোফাইল খতিয়ে দেখা হবে।
আবেদনকারীর পরিবারের কোনও সদস্য ভুল তথ্য ছড়ানো বা তথ্যবিকৃতির মতো ঘটনায় জড়িত কি না, তাও যাচাই করা হবে।
আবেদনকারী কারও বাক্স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলে খারিজ হয়ে যেতে পারে তার ভিসার আবেদন।
তাই মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে যে, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের সমাজমাধ্যমে ‘পাবলিক’ করে রাখতে হবে। যার মানে, সেগুলো লুকিয়ে রাখা যাবে না।
সমাজমাধ্যমে আবেদনকারীদের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেই ভিসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাম্প প্রশাসন।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের শনাক্ত করা যায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর জানিয়েছে, “প্রত্যেকটি ভিসা যাচাই করা হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে।”