০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিতে ফের আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা: বাসে তুলতেই চাকা পাংচার, পরে মুক্তি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কর্মীরা বাসের চাকা পাংচার করেছে। রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করেছেন প্রিয়াঙ্কা।

দিল্লিতে ফের আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা: বাসে তুলতেই চাকা পাংচার, পরে মুক্তি

ছবি: এনডিটিভি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 10:00 PM

Updated : 07 Oct 2026, 10:00 PM

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের শীর্ষ নেতাদের দ্বিতীয় দিনের মতো আটক ও পরে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাস্তায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে দিল্লি পুলিশ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের জোর করে একটি বাসে তুলে।

এই আটক এড়াতে এবং নেতাদের নিয়ে যাওয়া আটকে দিতে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশের ওই প্রিজন ভ্যান বা বাসের চাকা পাংচার করে দেন। চাকা পাংচার হওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধীকে অন্য আরেকটি বাসে সরিয়ে নেয় এবং বারখাম্বা রোডের একটি থানায় নিয়ে যায়। কয়েকঘন্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবারও একই দবিতে অবস্থান ধর্মঘটে বসার পর গান্ধী পরিবারের ভাই ও বোন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

বুধবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আবারও বাধা দেয় পুলিশ। পূর্বানুমতি না নেওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এদিন দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সংসদ সদস্যরা যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হলে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে।

প্রথম দফায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ শীর্ষ নেতাদের পুলিশ বাসে তুলে নেওয়ার পর অন্যান্য বিক্ষোভকারীদে আটক করতে গেলে সেই সময় ইন্ডিয়া জোটের অন্য নেতারা বাস থেকে নেমে রাস্তায় বসে পড়েন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানান।

পুলিশ বারবার সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাস্তাতেই থাকেন।

রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। সবুজ চুড়িদার, হাতগুলো বুকের কাছে জড়ো করা ছিল। সংবিধানটা শক্ত করে চেপে ধরে তিনি চিৎকার করছিলেন, ‘আমার সারা গায়ে আঁচড়ে দিয়েছে।’ তাকে ঘিরে রাখে দিল্লি পুলিশ।

সেখানে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। টানাহেঁচড়া চলছিল। শেষ পর্যন্ত রাহুলকে আটক করে পুলিশ। আর প্রিয়াঙ্কাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার দিনভর আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনা দিয়েছিলেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্য সাংসদরা।

এরপর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে হাজির হয়েছিলেন তারা। সেখানেই আচমকা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন সবাই। তারপর বাসে করে যাওয়ার সময় যন্তর মন্তরের প্রায় দেড় কিলোমিটার আগে অশোকা রোডের কাছে পুলিশ বাস আটকে দিলে ওই নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।