Published : 17 Oct 2025, 03:02 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনে সাংবাদিকদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় বুধবার দপ্তরের ভবন ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন অন্তত কয়েক ডজন সাংবাদিক।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের সংবাদ সংগ্রহ করা এই সাংবাদিকরা অফিস খালি করার পাশাপাশি ফেরত দিয়েছেন তাদের পরিচয়পত্রও।
প্রতিরক্ষা বিভাগ সংবাদমাধ্যমগুলোকে পেন্টাগনে প্রবেশের নতুন নীতিমালায় সই করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল।
এই নীতিমালা সই না করলে সাংবাদিকদেরকে পরিচয়পত্র হারাতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকারও থাকবে না বলে জানানো হয়েছিল।
রয়টার্সসহ অন্তত ৩০টি সংবাদমাধ্যম এই নীতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা বলেছে, নতুন নীতি সামরিক বাহিনীর সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকারের জন্য হুমকি।
নতুন নীতিতে সাংবাদিকদেরকে স্বীকার করতে বলা হয় যে, তারা যদি প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে গোপনীয় বা কয়েক ধরনের অগোপনীয় তথ্য জানতে চান, তবে তাদেরকে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে এবং পেন্টাগনের সাংবাদিক ব্যাজ কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সসহ ১০০-রও বেশি সংবাদমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী পেন্টাগন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে—“এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এক অন্ধকার দিন, যা শাসব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পেন্টাগনে জনগণের জবাবদিহিতা ও সবার জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।”
প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, “নীতিতে সাংবাদিকদের সম্মত হতে বলা হয়নি, শুধু স্বীকার করতে বলা হয়েছে যে, আমাদের নীতি কী সেটি তারা বুঝেছেন।
“আর এতেই সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অনলাইনে নিজেদের ‘ভিকটিম’ হিসেবে তুলে ধরছেন। আমরা আমাদের নীতির পক্ষে আছি। কারণ, আমাদের সেনাদের ও জাতীয় নিরাপত্তার সর্বত্তেম স্বার্থ এখানে জড়িত।”
বুধবার পেন্টাগন এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
বুধবার দপ্তরের সংবাদকক্ষ অস্বাভাবিকরকম নীরব ছিল বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। তারা তাদের আসবাব, কম্পিউটার সার্ভার, টিভি স্টুডিওর সাউন্ডপ্রুফ উপকরণসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটনের বেতার স্টেশন ডব্লিউটিওপি’র জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা জেজে গ্রিন বলেন, “পেন্টাগনের সংবাদকক্ষক এত নিস্তব্ধ আমি আগে কখনও দেখিনি।”
গ্রিন দুই দশকের অভিজ্ঞ সাংবাদিক। বুধবার সকালে তিনি নিজের পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো শুক্রবারের মধ্যে সরঞ্জাম সরিয়ে নেবে।
দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগনে স্বীকৃত সাংবাদিকরা কেবল উন্মুক্ত এলাকায় কাজ করার অনুমতি পেয়ে আসছিলেন। তারা প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্রদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেন, তবে কখনও গোপন এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পাননি।
“আমাদের কেউই কখনও গোপন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেনি বা গোপনে কিছু শোনার মতো কিছু করেনি,” বলেন ডিফেন্স নিউজ-এর বিমান বাহিনী বিষয়ক প্রতিবেদক স্টিফেন লোসি।
একজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেন্টাগনের করিডরে গোপন তথ্য নিয়ে আলাপ হয় না। আমরা এসব আলোচনা করি এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ‘সিগনাল’-এ।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অধীনে পেন্টাগনের নতুন সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ নীতি সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার সর্বশেষ সংযোজন।
পিট হেগসেথ একসময় ছিলেন ফক্স নিউজের উপস্থাপক। আর পেন্টাগনের নতুন নীতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানানো সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে ফক্স নিউজ অন্যতম।