Published : 08 Jul 2025, 03:37 PM
মিশরের রাজধানী কায়রোয় দেশটির বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ কোম্পানির একটি প্রধান ডাটা সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার কর্মী নিহত ও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন।
যে স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছিল সেটি টেলিকম ইজিপ্টের বলে মঙ্গলবার রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসাম আব্দেল গাফ্ফার।
মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার স্থাপনাটিতে আগুন লাগে আর সেইদিনই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনার মিশরের রাজধানীজুড়ে টেলিফোন ও ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়।
মিশরের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আমর তালাত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষেবাগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হবে।
একইদিন আরেক বিবৃতিতে টেলিকম ইজিপ্ট বলেছে, তারা প্রাণ হারানো কর্মীদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাদের পরিবারগুলোকে সহায়তা দিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফোন কল বন্ধ হয়ে যায় আর ইন্টারনেটে প্রবেশ বিঘ্নিত হয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী নেটব্লকস জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক তথ্য দেখিয়েছে মিশরের জাতীয় সংযোগ স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে অনেকখানি নেমে ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রশাসনিক অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার বিকল্প নাম্বার পোস্ট করেছে যেন লোকজন তাদের প্রধান হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করতে না পারলে এগুলো ব্যবহার করতে পারে।
সোমবার এক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফোন কলের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড, এটিএম মেশিন এবং অনলাইন লেনদেনের মতো কিছু ডিজটাল ব্যাংকিং পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরে ওই দিনের জন্য ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাফ্ফার জানান, আহতদের বেশিরভাগই ধোঁয়ায় কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সোমবার মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এমইএনএ জানিয়েছে, সারা ভবনজুড়ে ও আশাপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে এমইএনএ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সম্ভবত একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।