Published : 02 May 2026, 02:57 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পশ্চিম এশীয় মিত্র ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৮৬০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রি করছে। দ্রুততম সময়ে এই সরবরাহ সম্পন্ন করতে সামরিক রসদ সংক্রান্ত বিক্রি অনুমোদনের কংগ্রেসনাল পর্যালোচনা এড়িয়েছে তারা।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নবম সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার সময়টিতে ও একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিদ্ধান্তে এসেছেন যে এমন একটি জরুরি অবস্থান বিরাজ করছে যার জন্য ওই দেশগুলোতে অবিলম্বে সমরাস্ত্র বিক্রি করা দরকার আর এই বিক্রির জন্য কংগ্রেসীয় পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা মওকুফ করেছেন।
ঘোষণায় জানানো হয়েছে, কাতারে ৪০১ কোটি ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট এয়ার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিষেবা ফের পূরণ এবং ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলারে অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রি অন্তর্ভুক্ত।
এর পাশাপাশি কুয়েতে ২৫০ কোটি ডলারে একটি ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম (আইবিসিএস) এবং ইসরায়েলে ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার মূল্যে অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে এপিকেডব্লিউএস বিক্রি করা হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। ওই দিন সকালে হামলা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
তারপর থেকে ইরানের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়। বাস্তুচুত হয় লাখ লাখ মানুষ।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার, ইসরায়েল ও ইউএইতে এপিকেডব্লিউএস বিক্রির প্রধান ঠিকাদার বিএই সিস্টেম। আর কুয়েতে আইবিসিএস ও কাতারে প্যাট্রিয়ট এয়ার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিষেবা বিক্রির প্রধান ঠিকাদার আরটিএক্স ও লকহিড মার্টিন কোম্পানি। কুয়েতের সমরাস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নরথ্রপ গ্রামেনও একটি প্রধান ঠিকাদার কোম্পানি।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ থাকলেও মিত্রদের সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।