Published : 22 Dec 2025, 02:03 PM
মালয়েশিয়ার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রাণঘাতী সংঘাতের সমাধান খুঁজছেন তখন প্রতিবেশী দেশ দুটির সীমান্ত বরাবার নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোররাতে শুরু হওয়া এ সংঘাত অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আসিয়ান) এর যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুর্বল করে দিচ্ছে। জুলাইতে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, কিন্তু ৮ ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুপক্ষ আবার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে এই সংঘাতে উভয়পক্ষের সীমান্ত অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত ও প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন আর বানতেই মিয়াংচেই প্রদেশে চারটি বোমা ফেলার ও গ্রে চান গ্রামে ‘বিষাক্ত গ্যাস’ ছোড়ার অভিযোগ তুলেছে, জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আঁজঁস কাম্পুচিয়া প্রেস।
মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বোমা হামলা থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দারা এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন আর তাদের সঙ্গে থাকা শিশুরা কাঁদছে।
কম্বোডিয়ার গণমাধ্যমগুলো দেশটির সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বাটামবাং প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারী কামান থেকে গোলবর্ষণ করা হয়েছে আর তাতে অন্তত একজন বেসামরিক আহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের মর্নিং নিউজ টেলিভিশন থ্রি সোমবার ভোরে সা কায়েও প্রদেশে ‘গুলি বিনিময়’ হয়েছে, এ সময় কম্বোডিয়ার সেনারা ‘ভারী অস্ত্র’ থেকে গোলা ছুড়েছে। এতে প্রদেশটির খোক সুং জেলায় আগুন ধরে যায় ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াই নিয়ে থাইল্যান্ড সরকার শেষ খবর পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমবার ভোররাতে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের দপ্তর এক ঘোষণায় জানায়, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের সীমান্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার বেসামরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ওদোর মিনচে এলাকায় এক বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত অঞ্চলগুলোর অন্তত চার লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।