Published : 28 May 2026, 09:42 PM
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামী মাসে ভরতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী জুনে মিন অং হ্লাইংয়ের সম্ভাব্য এই সফর দিল্লির সঙ্গে নেপিদোর গভীর কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিই সামনে আনছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ।
পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারী হ্লাইং জান্তা প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন মিয়ানমার শাসন করলেও তার সময়ে গোটা দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা অভিযোগ।
সম্প্রতি এক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদে আসীন হয়েছেন মিন অং হ্লাইং। গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। ওই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করে আসছে দেশটির বিদ্রোহীরা।
গত জানুয়ারিতে হওয়া ওই ভোটে সু চির দলসহ বিরোধী বেশিরভাগ দল অংশ নেয়নি। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মিত্রতা থাকা বেসামরিক রাজনীতিবিদরা তাতে অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মিন অং হ্লায়িংয়ের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং, যা দুই দেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতিফলন।
সফরকালে ভারতের এই মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন। এছাড়া নেপিদোতে ভারতের অর্থায়নে একটি স্কুল প্রকল্পের জন্য একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। মে মাসের শুরুতে ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠী মিয়ানমার সফর করেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে কোনো ভারতীয় নৌপ্রধানের প্রথম মিয়ানমার সফর।
দিনেশ কুমার ত্রিপাঠী মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, যৌথ মহড়া, সীমান্ত স্থিতিশীলতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগ থাকলেও ভারত দেশটিকে উল্লেখযোগ্য মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের মার্চে মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর, নয়াদিল্লি ‘অপারেশন ব্রহ্মা’র আওতায় দেশটিতে বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং একটি ফিল্ড হাসপাতাল টিম পাঠায়; যারা হাজার হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন।