Published : 09 Aug 2025, 08:54 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার চন্দ্রাভিযানের মিশন অ্যাপোলো ১৩ এর নেতৃত্ব দেওয়া ও একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার পরও সেটিকে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা মহাকাশচারী জিম লোভেল মারা গেছেন।
তিনি প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে দুইবার চাঁদ গিয়েছিলেন। কিন্তু পৃথিবীর উপগ্রহটির খুব কাছে গেলেও তিনি একবারও চাঁদে নামেননি বা নামার সুযোগ পাননি।
৭ অগাস্ট, শুক্রবার ৯৭ বছর বয়সে ইলিনয়ের লেক ফরেস্টের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল অ্যাপোলো ১৩ মহাকাশযান পৃথিবী থেকে কয়েক লাখ কিলোমিটার দূরে মহাশূন্যে থাকা অবস্থায় এতে একটি অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এই দুর্ঘটনায় এর আরোহী তিন মহাকাশচারীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল, তাদের ফিরে আসাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু লোভেলের নেতৃত্বে সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সামাল দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পেরেছিলেন তারা।
লোভেল ও তার সঙ্গী অপর দুই মহাকাশচারী জ্যাক সোয়াইগার্ট ও ফ্রেড হেইস পৃথিবী থেকে প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার কিলোমিটার দূরে ছিলেন।
নাসা বলেছে, “তিনি একটি সম্ভাব্য শোচনীয় পরিণতিকে সাফল্যে রূপান্তরিত করতে পেরেছিলেন।”
নিজের শেষ এই মহাকাশ অভিযানের মধ্য দিয়ে লোভেল ৭১৫ ঘণ্টারও বেশি মহাশূন্যে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন।
১৯৬৫ সালের ৬ ডিসেম্বরে নাসার জেমিনাই ৭ মহাকাশযানে করে লোভেল প্রথম মহাশূন্যে যান। এই অভিযানে তারা প্রায় ১৪ দিন মহাশূন্যে থেকে মহাকাশে থাকার নতুন রেকর্ড গড়েন। এই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল এটি দেখা যে মানুষ দুই সপ্তাহ মহাকাশে টিকে থাকতে পারে কিনা, যদি তা না হয় তাহলে চাঁদে অভিযান মানুষের আওতার বাইরেরই থেকে যাবে। কিন্তু তারা টিকে থাকেন আর তা পরবর্তী চন্দ্রাভিযানের পথ সুগম করে।
১৯৬৬ সালের নভেম্বরে দুই আরোহীর মহাকাশযান জেমিনির শেষ মিশন জেমিনাই-১২ তে এডউইন বাজ অলড্রিনের সঙ্গে মহাকাশে পাড়ি দেন। এই অভিযানে অলড্রিন তিনবার মহাকাশে পাঁচ ঘণ্টা হেঁটে বেড়িয়ে নতুন নজির গড়েন। এই অলড্রিনই পরে ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে নিল অ্যার্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে চন্দ্র জয় করেন।
জেমিনির পর নাসা তিন মহাকাশচারীর মহাকাশযানের অ্যাপোলো মিশন শুরু করে। এই মিশনের অ্যাপোলো ৮ এ লোভেল অন্যতম মহাকাশচারী হিসেবে ছিলেন। এই মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার সময় প্রথম মানুষ হিসেবে উপগ্রহটির অন্য পিঠ প্রত্যক্ষ করেন ও এর ছবি তোলেন। যা তখন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।
নাসার বর্তমান প্রধান শন ডাফি বলেছেন, “মার্কিন মহাকাশ কর্মসূচীকে একটি ঐতিহাসিক পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন লোভেল।”
জেমস আর্থার লোভেল জুনিয়রের জন্ম ১৯২৮ সালের ২৫ মার্চ ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে। শিশুকাল থেকেই তিনি রকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। যা তাকে পরবর্তীতে একজন সফল মহাকাশচারীতে পরিণত হতে সাহায্য করেন।
লোভেলের অ্যাপোলে ১৩ মিশন নিয়ে ১৯৯৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এই চলচ্চিত্রে লোভেল চরিত্রে অভিনয় করেন প্রখ্যাত অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস।