১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

লোডশেডিং: গোপালগঞ্জে কমেছে মাংস ও ডিমের উৎপাদন

ফার্মসহ গৃহপলিত হাস, মুরগি থেকে এ জেলায় মোট ৭৫ হাজার ১০০ টন মুরগির মাংস ও ২৫ কোটি ৩৭ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jul 2026, 11:08 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

গোপালগঞ্জে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে পোল্ট্রি ফার্মগুলোয় মাংস ও ডিমের উৎপাদন কমেছে। অনেক খামারে হিটস্ট্রোকে মুরগি মারাও যাচ্ছে। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন খামারিরা। 

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় আড়াই হাজার পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। এরমধ্যে মাংস উৎপাদনের ব্রয়লার ফার্ম ২ হাজার ১৭৭টি। আর ডিম উৎপাদনের লেয়ার ফার্ম রয়েছে ৩৩৮টি। এছাড়া হাঁসের ফার্ম ৩৯১টি। 

এসব ফার্মসহ গৃহপলিত হাস, মুরগি থেকে এ জেলায় মোট ৭৫ হাজার ১০০ টন মুরগির মাংস ও ২৫ কোটি ৩৭ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। 

কিন্তু গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে তা অন্তত ১০ শতাংশ কমে যাচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গেবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, গরম ও লোডশেডিংয়ে এ জেলার পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে ১০ শতাংশ মড়ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ডিমের উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল গ্রামের বাংলা এ্যাগ্রো পোল্ট্রি ফার্মে প্রায় আড়াই হাজার মুরগি আছে। 

এ ফার্মের সত্ত্বাধিকারী মো. আকিবুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমের সাথে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে মুরগি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে হিটস্ট্রোক প্রতিহত করার চেষ্টা করছি। এতে খরচ বেড়ে যচ্ছে। 

তিনি বলেন, “বর্তমানে ১ কেজি ব্রয়লার প্রস্তুত করতে ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকা খরচ হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এরপর কিছু মুরগি মারা যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।” 

“নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে আমরা খামারীরা উপকৃত হব,” বলেন তিনি। 

মুকসুদপুর উপজেলার বরমপাল্টা গ্রামের লোয়ার খামারী সুরেশ ভদ্র বলেন, “গরমে মুরগি হাপিয়ে উঠছে। সেই সাথে লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় ডিমের উৎপাদন কমেছে। মাঝে মধ্যে মুরগি মারাও যচ্ছে। 

তিনি বলেন, “১ হাজার মুরগির পেছনে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ করছি। ডিম পাচ্ছি ৮০০ থেকে ৯০০টি। উৎপাদন কমে যওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, “বাজারে পোল্ট্রি ফিডের দাম বেশি, ডিমের দাম কম। লোডশেডিং বন্ধ করে সরকার ডিমের ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা করলে আমরা লাভবান হব।”

সাধারণত গরম বেশি পড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়ে যায়। গরম কমলে লোডশেডিং কমে আসে। 

মঙ্গলবার থেকে গোপালগঞ্জে গরমের মাত্রা কমেছে। তাই লোডশেডিং নেই বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, “এ জেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং করা হয় মাত্র ২২ ভাগ। গরমে অনেক সময় লোডশেডিং বাড়ানো কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এ জেলায় লোডশেডিং একেবারেই নেই। 

এছাড়া এ জেলায় একটানা লোডশেডিং কখনো ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, গরমে মুরগিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা স্থানে রাখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি মুরগিকে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পানি পান করাতে হবে। খাবারের বায়ো সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই পোল্ট্রি ফার্মের মুরগি সুরক্ষিত থাকবে।