Published : 26 Dec 2025, 08:29 PM
ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানে একটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার দখলে থাকা কিছু ভূখণ্ড ‘বিনিময়’ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাজি হতে পারেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রাশিয়ার সংবাদপত্র ‘কোমারস্যান্ট’।
তবে পুতিন শর্ত দিয়েছেন, পুরো ডনবাস অঞ্চল অবশ্যই রাশিয়ার হতে হবে। কোমারস্যান্টের ক্রেমলিন সংবাদদাতা আন্দ্রেই কোলেসনিকভ জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে ক্রেমলিনে রাশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, গত অগাস্টে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার যে ছাড় দেওয়া নিয়ে ‘সমঝোতা’ হয়েছিল, রাশিয়া এখনও সেই অবস্থানে অটল। অন্য কথায়, ‘ডনবাস আমাদের’।
কোমারসেন্ট পত্রিকায় সংবাদদাতা কোলেসনিকভ লেখেন, “মূল কথা হল, পুতিন গোটা ডনবাস অঞ্চলই চান। তবে এই অঞ্চলের বাইরে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার পক্ষ থেকে ‘আংশিক বিনিময়’ করার বিষয়টি তিনি নাকচ করেননি।
রাশিয়া বর্তমানে দনবাসের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ তাদের দখলে রয়েছে।
ইউক্রেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাছকাছি পৌঁছাচ্ছে। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, ডনবাসের যেসব এলাকা এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে সেগুলো ছেড়ে দেওয়ার দাবির বিষয়ে ইউক্রেইন এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও একমত হতে পারেনি।
তাছাড়া, রাশিয়া বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিঝিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়েও কথা বলে বলে জানিয়েছে কোমারস্যান্ট পত্রিকা।
পত্রিকাটির তথ্যানুযায়ী, পারমাণবিক কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘যৌথ ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে পুতিন আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ‘ক্রিপ্টো মাইনিং’ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তাছাড়া, কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আংশিকভাবে ইউক্রেইনকেও সরবরাহ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার দূতরা ইউক্রেইন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কো ও কিইভ, উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। তবে পুতিনের ডনবাসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি এবং জেলেনস্কির ভূখণ্ড রক্ষার অটল অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়ার পথে এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছিল রাশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এখন আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় নতুন নতুন প্রস্তাব উঠে আসছে।