Published : 19 Jan 2026, 12:17 AM
নোবেল পুরস্কার এবং এই পুরস্কার বিজয়ীকে আলাদা করা যায় না। কারণ, পুরস্কারটি ব্যক্তির (বা প্রতিষ্ঠানের) অনন্য কাজ ও সম্মানের প্রতীক, যা তাদের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
একজন নোবেল পুরষ্কার বিজেতা এই পুরস্কারের বস্তুগত দুটো প্রতীক পান। আর তা হল একটি গোল্ড মেডেল এবং একটি ডিপ্লোমা। এর সঙ্গে বিজেতাকে দেওয়া হয় পুরস্কারের নগদ অর্থও।
বিজয়ীর পদক ও ডিপ্লোমা কিংবা পুরস্কারের অর্থের ভাগ্যে যা-ই ঘটুক, পুরস্কারের সম্মান ও স্বীকৃতি সেই মূল বিজয়ীরই থেকে যায়। পুরস্কার গ্রহীতা হিসাবে প্রকৃত বিজয়ীর নামই আজীবন নথিভুক্ত থাকবে।
এই সম্মান ও স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া যায় না। গত বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক একান্ত বৈঠকে তিনি এ উপহার তুলে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে নোবেল পুরষ্কার হস্তান্তর করা যায় কিনা তা নিয়ে। আর এরই স্পষ্ট এই ব্যাখ্যা দিয়েছে নোবেল কমিটি।
নোবেল কমিটি এও বলেছে, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।”
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজেরর বৈঠকের আগেই নোবেল পিস সেন্টার এক্স পোস্টে বলেছিল, “একটি পদকের মালিক বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর খেতাব বদলাতে পারে না।”
নোবেল কমিটি আরও বলেছে, কমিটি কাকে নোবেল দেবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ের মধ্যে সেই ব্যক্তির অবদানের ভিত্তিতে পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এটি একজন ব্যক্তির কাজের জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা, যা বিজয়ীর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সামনে নিয়ে আসে।
বিজয়ী ব্যক্তি তার পদক বা পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন, সে বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়মবিধিতে কোনও কড়াকড়ি নেই। তার মানে, পুরষ্কার বিজেতা চাইলে এই পদক নিজের কাছে রাখতে পারেন, অথবা কাউকে দান করতে বা বিক্রি করে দিতে পারেন।
ট্রাম্প বা মাচাদোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে নরওয়ের নোবেল কমিটি বলেছে, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনও বিজয়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা কাজ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না।
উপহার হিসেবে নোবেল পুরস্কারের পদক অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এমনকি নোবেল পদক দান ও বিক্রি করারও নজির আছে।
১৯২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান লেখক নুট হামসুন। তবে ১৯৪৩ সালে তিনি তার পদক জার্মান স্বৈরশাসক হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে উপহার দিয়ে দিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের ২০০১ সালে পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ও সনদ তার বিধবা স্ত্রী ২০২৪ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে দান করে দেন।
রাশিয়ার সাংবাদিক ও ২০২১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ২০২২ সালে ইউক্রেইনীয় শিশু শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে নিজের নোবেল পদক ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেছিলেন।