১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কলম্বিয়ায় বিদ্রোহীদের সহিংসতায় নিহত ৬০

কাটাটুম্বোতে বামপন্থি ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) ও রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) একটি অংশের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সহিংসতা।

কলম্বিয়ায় বিদ্রোহীদের সহিংসতায় নিহত ৬০
কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবের শাসনামলে নিখোঁজ তরুণদের স্মৃতিতে বোগোতায় ম্যুরাল। ছবি রয়টার্সের

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jan 2025, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:37 AM

কলম্বিয়ায় মাদক চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ এক অঞ্চলে বিদ্রোহী দুই গোষ্ঠীর মধ্যকার বিবাদজনিত সহিংসতায় ৬০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারে মানবাধিকার ন্যায়পাল।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দপ্তরের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাটাটুম্বোতে বামপন্থি ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) ও এখন নিস্ক্রিয় রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) একটি অংশের মধ্যে বিরোধের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৬০ জনের মতো লোক নির্মমভাবে মারা পড়েছে, অপহৃত হয়েছে ৩২ জন, ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে কয়েকশ লোককে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোও গত সপ্তাহে ইএলএনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে বিদ্রোহী এ গোষ্ঠীটির সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করে দেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

তবে শনিবার এক বিবৃতিতে ইএলএন সহিংসতার দায় ফার্কের একটি অংশের ওপর চাপিয়েছে। বলেছে, ফার্কই বেসামরিকদের হত্যা এবং নানান আগ্রাসনমূলক কাজকর্ম করছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে ফার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। তবে এর আগে শুক্রবার বিদ্রোহী এ গোষ্ঠীটি জানিয়েছিল, সহিংসতা আরও বেড়ে যাওয়া এড়াতে তারা তাদের ইউনিটগুলোকে সরিয়ে নিচ্ছে।

ভেনিজুয়েলার সীমান্তলাগোয়া হওয়ায় কাটাটুম্বো মাদক চোরাচালানে কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। এ অঞ্চল দিয়েই বেআইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কোকেইন পাচার করে, ভাষ্য একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের।

কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অবসানে পেত্রোর সরকার ২০২২ সাল থেকেই বামপন্থি গেরিলা দল ও এককালের ডানপন্থি প্যারামিলিটারিদের প্রতিষ্ঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একের পর এক শান্তি আলোচনা চালিয়ে আসছে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ছয় দশক ধরে চলা সংঘাত, সহিংসতায় অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। 

ন্যায়পালের দপ্তর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ইএলএনের বিরোধিতা করায় সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অপহরণের ঝুঁকিতে পড়েছেন। 

তারা ইএলএন ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহ যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিতে এবং বেসামরিকদের ওপর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছে।