সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগের নিন্দা বাংলাদেশসহ ১২ দেশের
সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটিতে তাদের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ ১২টি দেশ সোমালিয়া থেকে পৃথক হতে চাওয়া সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কূটনৈতিক নিয়োগের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
শনিবার এসব দেশের যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
দুদিন আগে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) পৃথক বিবৃতিতে ‘কথিত’ সোমালিল্যান্ডে দূত নিয়োগের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
শনিবার এক্স পোস্টে ওমান ও পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতি প্রকাশ করে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক্স পোস্টের বরাতে লিখেছে, সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের ইসরায়েলি ঘোষণার বিষয়ে ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘তীব্র নিন্দা’ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে সম্মতি প্রকাশ করা অন্য দেশগুলো হল- সোমালিয়া, মিশর, সুদান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েত।
ইসরায়েল গত বুধবার সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে তাদের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাইকেল লোটেমকে সেখানকার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ার সামরিক স্বৈরশাসক সিয়াদ বারের ক্ষমতাচ্যুতির পর নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত সোমালিল্যান্ড।
শনিবার ইসরায়েলের পদক্ষেপের দূত নিয়োগের নিন্দা জানিয়ে ১২ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ ‘সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার এক চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত’।
বিবৃতি অনুযায়ী, মন্ত্রীরা ‘রাষ্ট্রের ঐক্য নষ্ট করে বা তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন সমস্ত একতরফা পদক্ষেপের দ্ব্যর্থহীন প্রত্যাখ্যান’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এতে বলা হয়, “তারা সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার পাশাপাশি এর বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তাদের দৃঢ় ও অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, যা সোমালি জনগণের ইচ্ছার একমাত্র প্রতিনিধি।"
তারা বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের নীতি, জাতিসংঘ সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের এক নির্লজ্জ লঙ্ঘন।
এ পদক্ষেপকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে তুলে ধরে তা ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বিৃবতিতে তুলে ধরা হয়।
দুদিন আগে ওআইসির মহাসচিবও ইসরায়েলের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছিলেন। সংস্থাটি সোমালিয়া এবং এর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে দেশটির ঐক্য ও বৈধ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
