Published : 17 Jun 2026, 08:44 PM
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হলেও এখনও ‘কাঁটা’ হয়ে আছে লেবানন। ইরান চায় ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক।
কিন্তু ইসরায়েল তাতে রাজি নয়। ইসরায়েলের এই অবস্থান শান্তিচুক্তি ভেস্তে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় মোটেই খুশি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি চান, লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহকে সামলাতে সিরিয়া ব্যবস্থা নিক ইসরায়েল নয়। কারণ, ট্রাম্প মনে করেন, হিজবুল্লার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়া আরও ভাল কাজ করতে পারবে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি সেভেন সম্মেলনে মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
“এতে লেবাননে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। তাই আমি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে (ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট) পরামর্শ দিয়েছি, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দিতে।”
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি ভাল করতে পারে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুবই পারঙ্গম।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল যদি লেবাননে প্রত্যেককে হত্যা করা ছাড়া কাজটি (হিজবুল্লাকে পরাস্ত) করতে না পারে তাহলে শারা সেটি করবেন। সিরিয়া এই কাজ করবে।”
চলতি মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লেবাননে সিরিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের চিন্তাভাবনার বিষয়টি সামনে এল।
এমন পদক্ষেপ ঐতিহাসিক এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আবারও উস্কে দিতে পারে, যেমনটি ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে। সিরিয়া সে সময় লেবাননে হামলা চালায় এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত দেশটির একাংশ দখল করে নেয়।
ট্রাম্প এর আগে গত ৭ জুন বলেছিলেন, “লেবাননে আল-শারা সহায়তা করতে আগ্রহী হবেন।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রায়ই আল-শারার প্রশংসা করেন। তিনি তাকে একজন খুবই শক্তিশালী নেতা ও কঠোর মানুষ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য তুরস্কে নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক দূত টম ব্যারাকের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গত মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে লেবাননে হামলা চালাতে চাপ দিয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছিল, ব্যারাক তা অস্বীকার করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রথম জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে সহায়তার জন্য পূর্ব লেবাননে সেনা পাঠাতে সিরিয়াকে চাপ দিচ্ছিল আমেরিকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব লেবাননে সিরিয়ার হামলার অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং দামেস্ক এ অভিযানের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছিল।
আল শারা সরকারের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উস্কে দেবে এবং সিরিয়ায় সংখ্যালঘু শিয়াদের মধ্যে অস্থিরতাও সৃষ্টি করতে পারে।
সিরিয়ায় আলাওয়ি, দ্রুজ ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েতে দেখা গেছে।
৪৩ বছর বয়সী আল-শারা ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলা প্রতিহত করতে সেখানে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ছিলেন।
পরে তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদার সিরীয় শাখা আল-নুসরা ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।
সিরিয়া সরকারের অনুগত সেনারা লেবাননে মোতায়েন হলে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের হামলা ইতোমধ্যে সেই উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবাননের দক্ষিণে নাগাড়ে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। তারা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাচ্ছে। মূলত দক্ষিণ লেবাননে প্রভাব রয়েছে এই গোষ্ঠীটির।
হিজবুল্লাহ দমনে দক্ষিণ লেবাননকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। তবে কেবল দক্ষিণ লেবাননই নয়, দেশটির রাজধানী বৈরুত এবং এর আশেপাশেও বোমাবর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই