Published : 29 Dec 2025, 08:28 PM
তাইওয়ানকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার সক্ষমতা দেখাতে দ্বীপরাষ্ট্রটি ঘিরে সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।
রয়টার্স লিখেছে, সোমবার থেকে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের এই মহড়ায় রেকর্ডসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে বেইজিং।
চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, এই মহড়ায় বিপুল সংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট এবং কামান মোতায়েন করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে তাইওয়ানক ঘিরে ফেলা, প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো অবরোধ করতে তাজা গুলির মহড়া এবং স্থল ও সমুদ্রে কাল্পনিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার ‘সিমুলেটেড স্ট্রাইক’ চালানো হবে।
তাইওয়ান ঘিরে কয়েকটি অঞ্চল চিহ্নিত করেছে চীন। মঙ্গলবার রেকর্ড সাতটি জোনে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চীনের মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
এবারের মহড়ায় চীন প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট, মাইক্রোড্রোন এবং অস্ত্রধারী রোবটিক কুকুরের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটির জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে। বেইজিং এই অস্ত্র বিক্রিকে ‘বৈদেশিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ওই অস্ত্র বিক্রয় চুক্তির ১১ দিন পরই চীন এই মহড়া শুরু করল।
তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষক চিয়ে চুং বলেন, তারা (চীন) এই মহড়ার মধ্য দিয়ে তাইওয়ানের বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছে।
চীনের এই মহড়ার মুখে তাইওয়ানও হামলা মোকাবেলার মহড়া চালাতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাদের সামরিক সক্ষমতার দেখিয়েছে।
সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ‘হিমার্স’ রকেট সিস্টেমসহ বিভিন্ন আধুনিক মারণাস্ত্রের প্রস্তুতি দেখানো হয়েছে। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই রকেট সিস্টেমটি যুদ্ধের সময় তাইওয়ান প্রণালীর ওপারে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তাইপে জানিয়েছে, তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুত এবং যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবেলায় তাদের সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
তাইওয়ানের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-প্রধান শিয়ে জিহ-শেং বলেন, “চীনের এই সরাসরি গুলির মহড়া কেবল আমাদের ওপর সামরিক চাপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য এক জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।”
এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাউইচি সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেছিলেন, তাইওয়ানে আক্রমণ হলে টোকিও সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে, চীনের এই মহড়াকে তারও একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাদের জলসীমার কাছে অবস্থান নেওয়া চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজগুলোকে মোকাবেলায় বড় আকারের রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার তাইপে’র আকাশসীমায় টানা ১০ ঘণ্টার মহড়ার জন্য একটি এলাকাকে ‘অস্থায়ী বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে চীন।
এর ফলে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমান চলাচলের বিকল্প রুট নির্ধারণের কাজ করছে তাইওয়ানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দিনভর তাইওয়ানের চারপাশে চীনের ৮৯টি সামরিক বিমান, ১৪টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৪টি কোস্টগার্ড বোটের সক্রিয় তৎপরতা ছিল। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বাড়তি চারটি রণতরীও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এক প্রোপাগান্ডা ভিডিওতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী অপশক্তিকে ধ্বংস করতে এই মিশন।”