Published : 19 Dec 2025, 10:19 AM
বন্ডাই সৈকতে হামলার পর বন্দুক বাইব্যাক বা পুনঃক্রয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
বিবিসি লিখেছে, ১৯৯৬ সালে পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর এটিই এ ধরনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। তিন দশক আগের ওই ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন, যার পর অস্ট্রেলিয়া ‘বিশ্বসেরা’ বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।
রোববার দেশটির সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকতে একটি ইহুদি উৎসবে দুই বন্দুকধারী গুলি চালালে ১৫ জন নিহত এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হন। পুলিশ মনে করছে, হামলাকারীরা ‘ইসলামিক স্টেট মতাদর্শে’ অনুপ্রাণিত।
পুলিশ শুক্রবার বলেছে, ‘চরমপন্থি ইসলামি মতাদর্শের’ অভিযোগে সিডনিতে আটক একদল পুরুষকে আটক রাখার আর কোনো কারণ নেই।
পুলিশের ভাষ্য, রোববারের ‘সন্ত্রাসী ঘটনাটি’ একজন বাবা ও ছেলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি হত্যার অভিযোগ এবং একটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় তার বাবা সাজিদ নিহত হন।
গুলিবর্ষণের পরদিনই জাতীয় মন্ত্রিসভায় ফেডারেল সরকার এবং সব রাজ্য ও অঞ্চলের নেতারা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিষয়ে একমত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।শুক্রবার বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৪০ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে—যা পোর্ট আর্থার গণহত্যার সময়কার সংখ্যার চেয়েও বেশি।
তিনি বলেন, “আমরা জানি যে এই সন্ত্রাসীদের একজনের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং সিডনির শহরতলিতে বসবাস করার পরও তার কাছে ছয়টি বন্দুক ছিল… এমন পরিস্থিতিতে কারও এতগুলো বন্দুকের প্রয়োজন নেই।”
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, “আপনি যদি বন্দুকের সংখ্যা কমাতে চান, তাহলে বাইব্যাক (পুনঃক্রয়) কর্মসূচি সেই সমাধানের অংশ হতেই হবে।”
বিবিসি লিখেছে, নতুন এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত, সদ্য নিষিদ্ধ ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরকার কিনে নেবে। এর অর্থায়ন রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর অর্ধাঅর্ধি করে বহন করবে। সরকার কয়েক লাখ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।
জাতীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন তার সীমা নির্ধারণ করা হবে, অনির্দিষ্টকাল মেয়াদের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স সীমিত করা হবে, কোন ধরনের বন্দুক বৈধ হবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক করা হবে।
জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থা দ্রুততর করা হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রকদের অপরাধ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে আরও ভালো প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ শুক্রবার জানিয়েছে, চরমপন্থি মতাদর্শের কারণে আটক সাতজনকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে তাদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সেখানকার পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আটক দলটির কোনো ‘নিশ্চিত যোগসূত্র’ নেই, তবে বন্ডাই সৈকতে আটক দলটির পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল।