Published : 05 Aug 2025, 11:46 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আল্টিমেটামের কাছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মাথা নত করবেন না এবং ইউক্রেইনের চারটি অঞ্চল দখলে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেও সরবেন না বলেই ধারণা প্রকাশ করেছেন ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা।
ইউক্রেইনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শুক্রবারই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ক্রেমলিন এতে বিচলিত নয়। ট্রাম্প নতুন যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা মোকাবেলা করা সম্ভব বলেই ক্রেমলিন মনে করছে, বলছেন রুশ কর্মকর্তারা।
ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতি করতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন রাজি না হলে রাশিয়ার তেলের ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে আছে তেলের বৃহত্তম ক্রেতার তালিকায় রয়েছে চীন ও ভারত।
ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ তিন কর্মকর্তা বলেছেন, পুতিন ইউক্রেইনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ থাকার কারণ হচ্ছে তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইউক্রেইনে রাশিয়ার জয়ের ধারা অব্যাহত আছে।
তাছাড়া, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের আরোপিত অর্থনৈতিক শাস্তি সফলভাবে সমলাতে পারার পর আবার নতুন দফায় কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তা মস্কোর বাড়তি তেমন কোনও ক্ষতি করবে না বলেও পুতিন মনে করেন।
ক্রেমলিনের দুই কর্মকর্তা বলছেন, ট্রাম্পকে উস্কাতে চান না পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট এও স্বীকার করেন যে, তিনি হয়ত ওয়াশিংটন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। কিন্তু ইউক্রেইনে পুতিনের যুদ্ধের লক্ষ্যই এখনও তার কাছে শীর্ষ অগ্রাধিকারের বিষয়।
ক্রেমলিনের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, কোনও শান্তি আলোচনায় বসার আগে ইউক্রেইনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসনকে রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই পুতিনের লক্ষ্য। এই অঞ্চলগুলোকে রাশিয়া এরই মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে ঘোষণা করেছে।
“পুতিন এই অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তিনি ইউক্রেইন যুদ্ধে তার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে দাবি করতে পারেন”, বলেছেন বাজারে আসতে চলা ‘দ্য রিটার্ন অব রাশিয়া’ বইয়ের লেখক জেমস রজারস।
এক ক্রেমলিন কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেইনের আলোচকরা মে মাস থেকে এ পর্যন্ত তিনবার শান্তি আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।
এর মধ্য দিয়ে পুতিন আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, শান্তি প্রস্তাবে তার (পুতিন) আপত্তি নেই। বাস্তব আলোচনার চেয়ে এসব বৈঠকে মানবিক আদান-প্রদান নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তিতে আগ্রহ দেখালেও দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই ভিন্ন যে, তা বাস্তবায়ন করা জটিল। গত সপ্তাহে পুতিন আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেন।
রাশিয়ার দাবি, চার অঞ্চল থেকে পুরোপুরি ইউক্রেইনীয় সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মর্যাদা কিইভকে মেনে নিতে হবে এবং তাদের সামরিক বাহিনীর আকারে সীমিত করতে হবে। তবে ইউক্রেইন এসব দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে আলোচনার সম্ভাবনা এখনও আছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এ সপ্তাহে রাশিয়া সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজ ও মস্কোর মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর উইটকফ এ সফরে যাচ্ছেন।
ইউক্রেইনে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্পের চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই রাশিয়া এর আগে এও বলেছে যে, তারা মাঝারি ও স্বল্প-পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনে বিরত থাকার শর্ত আর মানতে বাধ্য নয়।