১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামাবাদে আলোচনা ভণ্ডুলের কারণ জানালেন নেতানিয়াহু, বললেন ফোন করেছিলেন ভ্যান্স

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টই তাকে ফোন করে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

ইসলামাবাদে আলোচনা ভণ্ডুলের কারণ জানালেন নেতানিয়াহু, বললেন ফোন করেছিলেন ভ্যান্স
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Apr 2026, 02:02 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

ইরান যখন দাবি করছে, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলার সময় আচমকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের কাছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফোনকল সবকিছু বদলে দিয়েছিল, ঠিক তখনই এ বিষয়ে পাল্টা দাবি করে আলোচনা ভণ্ডুলের কারণ জানালেন নেতানিয়াহু।

তার দাবি, আসলে আলোচনা শেষে তাকেই ফোনকল করেছিলেন জে ডি ভ্যান্স। আলোচনার বিষয়ে ভ্যান্সই তাকে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। 

নেতানিয়াহুর মতে, ইসলামাবাদের আলোচনা কেবল ভেস্তেই যায়নি বরং ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ‘বিস্ফোরণ’ ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ খোলা নিয়ে ইরানের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের বিষয়টি সহ্য করতে পারেনি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ম্যারাথন শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে দোষারোপ করেছে।

সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দাবি করেন, আলোচনার সময় ভ্যান্সের কাছে আসা নেতানিয়াহুর ফোনের কারণে আলোচনা ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে দিকে ঘুরে যায়। ফলে আলোচনা ব্যর্থ হয়।

ইরানের এই দাবির পরই সোমবার নেতানিয়াহু জেরুজালেমে মন্ত্রিসভায় ইসলামাবাদের বৈঠকের বিষয়ে নিজের ওই বক্তব্য জানান। 

তিনি বলেন,  “গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে বিমান থেকে আমাকে ফোন করেছিলেন। 

মার্কিন প্রশাসন প্রতিদিন যেমনটি করে, সেভাবেই তিনি আলোচনার অগ্রগতি এবং এক্ষেত্রে আলোচনায় ‘বিস্ফোরণ’ (ব্যর্থতা) সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।”

নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, ইরান আলোচনার প্রাথমিক শর্ত ভঙ্গ করায় ওয়াশিংটন এই বৈঠক থেকে সরে এসেছে। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, আলোচনার টেবিলে বসার যে শর্ত ছিল, ইরান তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। 

তিনি বলেন, “চুক্তি ছিল তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালির দুয়ার খুলে দেবে। কিন্তু তারা তা করেনি। এই ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ আমেরিকা সহ্য করতে পারেনি এবং তাদের পক্ষ থেকেই আলোচনার ইতি টানা হয়েছে।”

জে ডি ভ্যান্সের বরাত দিয়ে নেতানিয়াহু আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখনও অপরিবর্তিত।

 ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং আগামী কয়েক দশক দেশটিতে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের সিদ্ধান্তের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে দূরত্বের দাবিকে নাকচ করে তিনি একে ‘বাস্তবতার উল্টো’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের ইতিহাসে এবং ইহুদি জাতির ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তির সঙ্গে এমন সমন্বয় আগে কখনও ছিল না। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই আমরা বিনাশের বিপদ প্রতিহত করতে সক্ষম।”

বৈঠকে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে নিয়োজিত ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও মন্ত্রীদের আপডেট দেন। 

তিনি বলেন, “আমাদের সেনারা সীমান্ত থেকে শত্রুদের হটিয়ে দিচ্ছে এবং একটি সুদৃঢ় ও গভীর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে। 

এটি অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং ট্যাংক-বিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকি থেকে আমাদের রক্ষা করবে।”