Published : 21 May 2026, 05:12 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা দ্রুততর করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান।
এ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান আসিফ মুনির তেহরান যাবেন কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে ও একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ঘোষণায় পৌঁছতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে মুনির তেহরান সফর করবেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নকভি বুধবার তেহরানে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিন সূত্রের মধ্যে একজন রয়টার্সকে বলেন, “আমরা ইরানের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলছি যেন যোগাযোগ মসৃণ হয় ও কাজের গতি বাড়ে। ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে আসাটা উদ্বেগের বিষয় হলেও আমরা দুই পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের গতি উন্নয়নে কাজ করছি।”
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখছে তারা। যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, এবার তারই জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা নূর নিউজের দেওয়া উদ্ধৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মতামত পেয়েছি আর সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি।”
আইএসএনএ বলেছে, “একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে তেহরানে আলোচনা চলছে। এগুলোর মধ্যে বিশদ কিছু বিবরণ আর নিশ্চয়তা হিসেবে আস্থা গঠন করার পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। খসড়াটি ব্যবধান কিছুটা কমালেও আরও কমানোর জন্য ওয়াশিংটনের যুদ্ধের উস্কানি দেওয়া বন্ধ হওয়া দরকার।”
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এবারও তারাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ইতোমধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড যোগাযোগ হয়েছে বলে বাকায়ি জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান স্থগিত করার পর ছয় সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে ও ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতির কারণ হচ্ছে, পাশাপাশি এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের বাড়তে থাকা দামের কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও চাপে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ জবাব পর্যালোচনা করে দেখছে তেহরান
ইরানের কাছ থেকে 'সঠিক উত্তর' পেতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক ট্রাম্প